বন্দর ইজারার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মশালমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পুরানা পল্টনেছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে।

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদ বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে জাতীয় স্বার্থ ও বন্দর রক্ষায় বৃহত্তর গণ–আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে এক মশালমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কথা বলা হয়। ‘বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পুরানা পল্টন মোড় থেকে মশালমিছিলটি শুরু হয়ে কদম ফোয়ারা ঘুরে আবার পল্টন মোড়ে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে রূপ নেয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান কৌশলগত স্থাপনা। দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য বন্দরের টার্মিনাল ও অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী। এর ফলে দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক ডা. আবু সাঈদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় কৌশলগত সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাম্রাজ্যবাদী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। বন্দরের সাধারণ শ্রমিকেরা যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলনের সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল, গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (জি-স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) কোষাধ্যক্ষ কাজী রুহুল আমিন এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতা অনন্ত ধামাই।