সংসদ সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিন–ওভেন চাওয়া নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিতর্ক না বাড়ানোর আহ্বান স্পিকারের

জাতীয় সংসদ অধিবেশনছবি: সংসদ টিভি থেকে

জামায়াতে ইসলামীর সেই সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানকে মাইক্রোওভেন দিতে চান বিজেপির সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ। একই সঙ্গে তিনি ওই সদস্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিং মেশিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পর্দা দেওয়ার অনুরোধও জানান।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেন আন্দালিভ। তাঁর বক্তব্যের পর পাল্টা বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রশ্ন রাখেন, ‘ওনার কাছে চাইছে নাকি?’ আর আন্দালিভের বক্তব্যের বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক না বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বুধবার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি জানান মিজানুর রহমান। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

আজ বিকেলে বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, জামায়াত এমপির ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন, পর্দা চাওয়া বৃহৎ অর্থে সংসদকে ‘ইফেক্ট’ করেছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে অনেকের টেলিফোন পেয়েছেন। গণমাধ্যম প্রতিবেদন করেছে। এটি সংসদের জন্য লজ্জার।

আওয়ামী লীগের আমলের কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ বলেন, ‘গত সংসদ শুধু সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে নাই, সংসদের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি এখানে মমতাজ থেকে শুরু করে...গান হয়েছে, অন্য কিছু হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরাসরি ওই দিকে না গেলেও কিছু জায়গায় আমরা ওই দিকে চলে যাচ্ছি।’

সংসদে একটি মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত মন্তব্য করে বিজেপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার ভাই, যেহেতু মন্তব্য করেছেন, উনি (মিজানুর রহমান) চান। আমি ওনাকে বিব্রত না করে, আগামীতে ওনার যদি পর্দা, মাইক্রোওভেন লাগে, তাহলে আমি আমার তরফ থেকে দিতে চাই।’ আন্দালিভ রহমান আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, ওনি যদি ওয়াশিং মেশিন দেন (জামায়াত এমপিকে), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে বলতাম, উনি পর্দাটা কিনে দিতেন। ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম, তারপরও আমাদের সংসদেকে উনি বিব্রত না করেন।’

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেন, বাজেট আলোচনায় অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। একজন সদস্য তাঁর সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। তিনি নিজের জন্য চাননি। যেসব সংসদ সদস্য সংসদের দেওয়া ভবনে থাকেন, তাঁদের জন্য চেয়েছেন।

স্পিকার বলেন, তিনি মনে করেন এটা সংসদে না বললেও হতো। কিন্তু এটা বলে বিরোধী দলের ওই সদস্য কোনো গর্হিত অপরাধ করেননি। সংসদ কমিটি আছে। সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্র দেওয়া হয়।

স্পিকার বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা না বললেও হতো, জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি তো তাঁদের প্রাপ্য হতে পারে, এমন কোনো বড় জিনিস নয়। সামান্য জিনিস নিয়ে তর্কবির্তক চাই না। এটা নিয়ে বিতর্ক করলে বাইরে খারাপ বার্তা যাবে।’

আন্দালিভকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, ‘যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে অফার করেছেন, তাঁকে দেবেন, এটাও তাঁর জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। উনি নিজের জন্য চাননি, যেসব সংসদ সদস্য সরকারি বাড়িতে বসবাস করেন, তাঁদের জন্য চেয়েছেন। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই।’

 এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, একজন সদস্য সবার জন্য চেয়েছেন। আপনি (স্পিকার) ঠিকই বলেছেন এটা সংসদে না বলে, কমিটিতে বললেই হতো। কিন্তু তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে গাড়িবাড়িসহ সব নিয়ে এলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি তো (পার্থ) বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, নিজে থেকে অফারও দিয়ে দিলেন, সব দিয়ে দেবেন। ওনার কাছে চাইছে নাকি? আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত, এখানে দাঁড়িয়ে কারও সম্মানে আঘাত করব না। আশা করি সকলেই এ বিষয়ে যত্নশীল হব।’

আরও পড়ুন