এই বাজেট অনেকটা চানাচুরের মতো, খেতে ভালো লাগবে, পুষ্টিগুণ নেই

বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায়ছবি: এনসিপির সৌজন্যে

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী, বাস্তবতা-বিবর্জিত ও ঋণগ্রস্ত বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই বাজেট অনেকটা চানাচুরের মতো, খেতে ভালো লাগবে, দেখতে সুন্দর, কিন্তু এটার কোনো পুষ্টিগুণ নেই।’

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। শুনলে মনে হবে অনেক বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাত ও অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার নিয়ে কোনো ধরনের আলাপ নেই৷ ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, লুটেরা গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, পাচার করা অর্থ কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত আনবে, সরকার কীভাবে আয় বৃদ্ধি করতে পারে—এগুলো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর পুরো বক্তব্যে কিছু পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিকভাবে ঘোষিত বাজেট নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছেন না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই বাজেটে বিদেশি-দেশি ঋণ বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে।

বাজেট বক্তব্য শুনলে অনেক সুন্দর মনে হবে, কিন্তু এটা আসলে দেশের অর্থনৈতিক কোনো মৌলিক পরিবর্তন করতে পারবে না৷ অর্থনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক সংস্কার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এই সরকারের কমিটমেন্ট ও অর্জন শূন্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নজিরবিহীনভাবে ব্যাংকিং খাতে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণ দেখছি। ইসলামী ব্যাংক আমাদের সামনে একটা বড় উদাহরণ, যেটা নিয়ে সংসদে ইতিমধ্যে বিতর্ক হয়েছে। আপনারা সবই শুনেছেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল যে তারা আর্থিক খাতে কোন রাজনৈতিক নিয়োগ দেবে না, রাজনৈতিক বিবেচনা করবে না৷ বাংলাদেশ ব্যাংকেই আমরা প্রথম বিতর্কিত-সমালোচিত নিয়োগ দেখেছি, দলীয় নিয়োগ দিতে দেখেছি।’

ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া চলমান—এমন অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের যে নৈরাজ্যটা ছিল এবং আমানতকারী বা গ্রাহকদের যে অনাস্থা, সেই অনাস্থা কিন্তু নতুন করে আবার শুরু হয়েছে। সবাই তাকিয়েছিল সরকারের দিকে যে একটা আস্থার জায়গা তৈরি হবে, কিন্তু সেটা হয়নি। ইসলামী ব্যাংকের ওপর যদি আমানতকারীদের অনাস্থা তৈরি হয়, এর ফলে কিন্তু পুরো ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য তৈরি হবে এবং এটা হচ্ছে।

ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে—বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই প্রশ্ন তুলেছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, অর্থমন্ত্রীর পুরো বক্তব্যে এ বিষয়টিও ছিল না।

রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া স্বচ্ছতা-সুশাসন কীভাবে নিশ্চিত হবে—সেই প্রশ্নও তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, যদি দুদক সংস্কার না হয়, বিচার বিভাগ সংস্কার না হয়, তাহলে এই বড় বাজেটের মধ্যে বড় দুর্নীতির যে সুযোগ তৈরি হবে, সেটাকে কীভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে?