বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে এ প্রসঙ্গে উত্তরায় নিজের ভাড়া বাসায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টিও তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা বিশ্বাস করেন, আমি রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছি। আমার স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন কথা হয় যে বিদ্যুতের এত পয়সা দেব কেন? দিতে হচ্ছে। অবাক হবেন শুনলে, কোনো মাসে আমার ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আসে। আমার এসি খুব কম চলে। বাসায় আমরা দুজন মানুষ। কী করে মানুষ বাঁচবে?’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তাদের তো এসব বিল দিতে হয় না। সরকার দেয়, জনগণের পয়সা থেকে নেয়। আমাদের তো জনগণকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়।’

বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণ ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির সমালোচনা করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে কুইক রেন্টাল ও আইপিপি কেন্দ্রগুলোতে ৭০ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্রায় ২১৬ কোটি ডলার ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে। সরকারকে বারবার সতর্ক করলেও ক্ষতিকর এই চুক্তিগুলো বাতিল না করে অতিরিক্ত ব্যয় করেই চলেছে। উপরন্তু আদানি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম অবিলম্বে ক্ষতিকর রেন্টাল ও আইপিপি চুক্তি এবং আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

যমুনা নদী সংকোচন প্রকল্প কার স্বার্থে

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার যমুনা নদীকে সংকুচিত করার একটি ভয়াবহ প্রকল্প নিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, এটি আত্মহননকারী প্রকল্প। যমুনা নদীর সংকোচন বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, জীবিকা এবং জলবায়ুর মারাত্মক ক্ষতি করবে। এ ধরনের আত্মহননকারী সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানিয়েছে স্থায়ী কমিটি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, এই প্রকল্পের মোট বাজেট ১২ হাজার কোটি টাকা।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সমস্যাগুলো এই জায়গায়, যেগুলো প্রয়োজন, সেখানে তাদের দৃষ্টি নেই। বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেই, কোনো প্রকল্প নেই, শীতলক্ষ্যা নদী দূষণমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেই। কোথায় আবহমানকালের যমুনা নদী—সেই নদীকে সংকুচিত করতে চায় কার স্বার্থে। স্বার্থ একটাই। এক নম্বরে যমুনা নদীকে অকেজো করে ফেলা ও দুই নম্বর হচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করা। এই প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে।’

গতকাল সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সভা হয়। সভায় এই প্রকল্প ছাড়াও বর্তমান সরকারের দুর্নীতির খতিয়ান জনসমক্ষে উন্মোচন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।