ইসলামপন্থী রাজনীতি করতে হলে গণসার্বভৌমত্বকে স্বীকার করতে হবে: আলী রীয়াজ

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গুলশান, ঢাকা। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: মীর হোসেন

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতি করতে হলে আগে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও গণসার্বভৌমত্বকে সুস্পষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ‘বাংলাদেশ জামায়াত–ই–ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি ইসলামপন্থী রাজনীতি কেউ করতে চায়, তাহলে তাদের প্রথম কাজ হচ্ছে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরি করা এবং সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরি করার জন্য গণসার্বভৌমত্বের জায়গাটাকে সুস্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। অতীতের ভুলভ্রান্তির পাশাপাশি এগুলোকে যখন মোকাবিলা করা যাবে, তখন এই আলোচনাগুলো একটা ফলপ্রসূ জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে।’

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীকে সংস্কারের ধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, বিশেষ করে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির যে বিতর্কিত ও সংঘাতপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সে জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার কথা তিনি বারবার তুলে ধরেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের স্বার্থেই এই বিতর্কের মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জামায়াতের পক্ষে যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে হয়, তাহলে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের এই বই জামায়াতের নেতাদের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, এটা অস্বীকারের উপায় নেই যে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা দল ও দেশের জন্যই দরকার। তবে আবদুর রাজ্জাকের বইটির মূল্যায়ন কেবল ১৯৭১ সালের ভূমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বইটির পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক প্রসঙ্গ রয়েছে। সেখানে জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান, রাষ্ট্র ও নাগরিকের সার্বভৌমত্ববিষয়ক নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দলে নেতৃত্বের ঘাটতি, বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় দূরদর্শী (ভিশনারি) নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ আছে কি না, সেসব বিষয়েও লেখক গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইয়ের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রদূত জন ড্যানিলোভিচ ও দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। এ ছাড়া আবদুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, তাঁর শুভানুধ্যায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।