দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিএনপি ছাড়া আর কোনো দলের নেই: তারেক রহমান
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই উল্লেখ করে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিএনপিরই সুস্পষ্ট কর্মসূচি ও পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে অভিজ্ঞতা দরকার, তা একমাত্র বিএনপিরই আছে।
সোমবার রাজধানীর বাসাবো বালুর মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে আর কোন রাজনৈতিক দল আছে, যাদের অভিজ্ঞতা আছে দেশ চালানোর? প্রিয় ভাই-বোনেরা, দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা আর কারও নেই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে আমরা দেখেছি ১৯৭৪ সালে যখন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল...পরবর্তীতে যখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাঁধে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব আসে, জিয়াউর রহমান শুধু দুর্ভিক্ষের কবল থেকেই বাংলাদেশকে রক্ষা করেননি, তিনি খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করেছেন। একই সাথে বিদেশে পর্যন্ত খাদ্য রপ্তানিও করেছেন।’
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, দেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়েও হতে হবে।
স্থানীয় সমস্যা প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এলাকায় খেলার মাঠ নেই, চিকিৎসাসুবিধা অপর্যাপ্ত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্থানীয় হাসপাতালটি বিএনপি সরকারের সময় খালেদা জিয়ার উদ্যোগেই নির্মিত হয়েছিল। তবে গত ১৬ বছরে মানুষের সংখ্যা ও চাহিদা বাড়লেও হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, কিন্তু জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই ঢাকা ৯–এ অবস্থিত মুগদা হাসপাতাল ধানের শীষই তৈরি করেছিল। এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নসহ কাজ এগিয়ে নিতে হলে ধানের শীষের সরকার দরকার।’
এলাকার ভাঙাচোরা সড়ক, জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জনগণের সহযোগিতা চান তারেক রহমান। এ ছাড়া নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার এবং যাতায়াত সহজ করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি যখন সরকার গঠন করে...তখন দেশের কাঁধে ছিল দুর্নীতির তকমা। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার ২০০৬ সালে যখন ক্ষমতা ছেড়ে দেয়, তখন সেই বাংলাদেশকে দুর্নীতির তকমা থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরের দুর্নীতি থেকে দেশকে যদি বের করতে হয়, তবে একমাত্র বিএনপির পক্ষেই তা সম্ভব। কারণ, বিএনপির সেই অভিজ্ঞতা আছে। খালেদা জিয়ার সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা হয়েছিল।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরে খালেদা জিয়ার শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। তখন মা-বোনেরা ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারতেন। দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে আনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার রেকর্ড বিএনপির আছে।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, নারীশিক্ষা এবং শিল্পকারখানা গড়ে তোলার জন্য বিএনপির বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০ কোটি মানুষের দেশ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কেবল তাঁদেরই আছে।
আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা...গত ১৬ বছর জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাই-আগস্টেও বহু মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে জীবন উৎসর্গ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছে...এখন আমাদেরকে দেশ গঠন করতে হবে। এই দেশকে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে এবং সেটি যদি করতে হয়, তাহলে সঠিক দলকে বাছাই করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী হিসেবে হাবিবকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এলাকার সন্তান হিসেবে তিনি সঠিক উন্নয়ন করতে পারবেন। নির্বাচিত হলে হাবিবকে সব সময় জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেন তিনি।