সবার সহযোগিতায় সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনফাইল ছবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সবার সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘আমরা জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি। আমরা আপনাদের সবার সহযোগিতায় একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সুন্দর একটা নির্বাচনের পর এই প্রথম আমি আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছি। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সেই ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি এখনো এমন একজন ব্যক্তিকেও পাইনি, যিনি বলেছেন যে তিনি নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারেননি।’

কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছেন উল্লেখ করে সিইসি বলেন, কেউ বলেননি তাঁরা ভোট দিতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সবাই বলেছেন, তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালির মান নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কালি তো উঠছে না। ভয় হচ্ছে সামনের লোকাল গভর্নমেন্ট (স্থানীয় সরকার) নির্বাচনে এই কালি নিয়ে ভোট দিতে গেলে আবার ধরা খাই কি না!’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সেরা মানের কালি ব্যবহার হয়েছে। সাধারণত ভোট দিয়ে ঘষা দিলে কালি চলে যায়, কিন্তু এবারের কালি অবিশ্বাস্য রকম টেকসই।

সিইসি আবারও ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির ব্যবহারে নিজের আপত্তির কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে মাইনরিটি কিসের? আমরা তো এক জাতি। রিলিজিয়াস অর্থে হয়তো বিভাজন করা হয়, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সবাই সমান এবং সবার সমান অধিকার।

দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতে নারীদের গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন করা হয় না উল্লেখ করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নারীদের ঘরের কাজের অবদান যদি আর্থিক মূল্যে (মনিটাইজ) হিসাব করা হতো, তবে বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বেশি হয়ে যেত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দাঁড়িয়ে আছে নারীদের ওপর, তাই তাদের কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল জানিয়ে সিইসি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে সেই ব্যবধান এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে।

সিইসি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা ছিল প্রশংসনীয়। ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, কিন্তু কোনো নারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ‘সমতা নিশ্চিত করি নারী পুরুষ মিলে ভবিষ্যৎ গড়ি’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

এ ছাড়া ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, ইউএন ওমেনের বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি (কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ) গীতাঞ্জলি সিং, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।