শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা
বিচারের দাবি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহৃত হলে ন্যায়বিচারের লড়াই দুর্বল হবে: এনপিএ
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। তারা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছেন এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান ও ফেরদৌস আরা রুমী। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা ন্যায়বিচারের লড়াইকে দুর্বল করবে। যাঁরা শহীদ হাদি হত্যার বিচার আন্তরিকভাবে চান, তাঁদের সজাগ থাকতে হবে এই ন্যায়সংগত দাবি যেন কোনো গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।’
ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে গতকাল শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে এনপিএ বলেছে, রাজনৈতিক সমাবেশ মোকাবিলায় এ ধরনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অগ্রহণযোগ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযম, সংলাপ ও বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বলপ্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনের কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে এ ধরনের সহিংসতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিভিন্ন মহল থেকে পরিস্থিতি ঘোলা করে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠছে। এতে সরকারের ভেতরের কোনো অংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা বা মদদ নেই—এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।
এনপিএ বলেছে, শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিচারের দাবিকে কেন্দ্র করে দমন–পীড়ন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও ভীতি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং জনবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী তরুণদের এই প্ল্যাটফর্মের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সহিংসতা নয়, আইনের শাসন চাই। আমরা দমন নয়, জবাবদিহি চাই। আমরা ভয়ভীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সতর্কতা ও সহনশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই, যাতে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্রে নির্বাচন বানচালের সুযোগ তৈরি না হয়।’
বিবৃতির শেষাংশে এনপিএ তিনটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা; শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ ও দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে দমন–পীড়ন বন্ধ করে স্বাভাবিক; শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি বা ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।