স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করার পরও মবের ঘটনা ঘটেই চলছে: সংসদে রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদে কথা বলছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিভিন্ন দেশে নাচ, গান—নানা রকম সংস্কৃতি থাকে। আর বাংলাদেশে গত দেড় বছর এবং এর পরের দুই মাস ধরে মবের সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েক দফা আশ্বস্ত করার পরও একটির পর একটি মবের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে নোটিশের ওপর আলোচনায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে নানা রকম সংস্কৃতি থাকে—নাচের সংস্কৃতি, গানের সংস্কৃতি, অভিনয়ের সংস্কৃতি, কবিতার সংস্কৃতি। আমাদের দেশে গত দেড় বছর এবং এরপরের দুই মাস ধরে মবের সংস্কৃতি দেখলাম।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমরা দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মব করে সরানো হয়েছে। আমরা দেখলাম বাসসের প্রধানকে মব করা হয়েছে। বরিশাল আদালতের প্রাঙ্গণে মব হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট লইয়ার রুমে মব হয়েছে। ডেইলি স্টার-প্রথম আলো ভাঙা হয়েছে। চট্টগ্রামে দেড় বছর আগে নেচে-গেয়ে, নাচ এবং গানের মাধ্যমে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় একজন কথিত পীরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে কিছুদিন আগে।’

রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এটি উল্লেখ করে রুমিন বলেন, ‘আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত আছেন। উনি একবার না, দুইবার না, কয়েক দফা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশে আর মবের সংস্কৃতি হবে না। উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি হবে না। উনি আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম একটির পর একটি জায়গায় মবের ঘটনা ঘটেই চলেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখনই এ রকম সংস্কৃতি বাড়ে। মানুষের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ, তীব্র বৈষম্য আছে এবং সর্বোপরি আছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব। গত দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে মব করে যে লোকটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল, তার বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি।

নিরাপত্তা নিয়ে হান্নান মাসউদের উদ্বেগ

নির্বাচনী এলাকায় হামলার শিকার হওয়ায় বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের অভিযোগ এনে সংসদে নোটিশ দেন এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। অবশ্য ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদকে জানান, বিষয়টি সংবেদনশীল। কিন্তু বিধিগত সীমাবদ্ধতার কারণে নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

হান্নান মাসউদ সংসদে বলেন, তিনি একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের রাজত্ব চলছে। নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে তিনি অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ওপর হামলার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রাখা হচ্ছে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি এ ঘটনা (হান্নান মাসউদের ওপর হামলা) সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। হান্নান মাসউদ যদি জিডি বা মামলা না করে থাকেন, এখনো ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট থানায় এটা করতে পারেন। সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরামর্শ দেন, যেকোনো সংসদ সদস্য এ রকম পরিস্থিতির শিকার হলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করেন। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।