রিজওয়ানা হাসান, খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার দাবি জামায়াতের

জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও দাবি তোলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরছবি: প্রথম আলো

সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের বিচার দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী।

এই দুই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা। তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে এটা প্রকাশ করেছেন, যারা—তাঁর ভাষায়—নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি। তখনই বোঝা যায়, যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা এসেছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, কী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁরা জানতে চান। তিনি আরও বলেন, ‘এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উনার সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল? পুরো গভর্নমেন্ট ছিল, নাকি গভর্নমেন্টের একটি অংশ ছিল, যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে এবং তাদের ডিজাইন অনুসারে সেখানে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ইত্যাদি নিয়োগ করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকদের নিয়োগ করে তারা সেই তাদেরই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা, সেই সংখ্যায় একটি দলকে জেতানোর জন্য তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। জাতির কাছে এটা স্পষ্ট করতে হবে।’

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি এই সরকারের কাছে দাবি জানাব, রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং আওতায় এনে পরিষ্কার যে সিচুয়েশন তিনি তৈরি করেছিলেন, সে সম্পর্কে ওনারা জানবেন, আমাদের জানাবেন, দেশবাসীর কাছেও এটা পরিষ্কার করবেন।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াত অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমপর্যায়ের নিরপেক্ষ বলেছিল। এমন নীতিগত কথা ছিল, তাদের কেউ দলীয় সরকারের মন্ত্রিত্ব নেবেন না। তবে নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এটি তিনি আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খলিলুর রহমানকে লন্ডন ষড়যন্ত্রের হোতা বলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি সরকারকে মোটিভেট করে, ষড়যন্ত্র করে বর্তমানে যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই অব্যাহতভাবে কাজ করেছেন এবং সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই রিওয়ার্ডটা উনি পেয়েছেন।’

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং তাঁকে সরকার থেকে বের করে দিতে বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তাহের। তারপরও ‘বিতর্কিত ব্যক্তিকে’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা তাহের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উনি বিএনপির সঙ্গে নিশ্চয়ই গোপনে এমন এক কন্ট্রাক্টে গেছেন, তারা বিএনপির স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য উলঙ্গভাবে ভূমিকা নিয়েছেন, যে কারণে বিএনপির আস্থাভাজন হয়ে আবার তিনি বিএনপির মন্ত্রী হয়েছেন।’

সরকারের উপদেষ্টারা বিএনপিকে জেতানোর জন্য কী ধরনের ষড়যন্ত্র করেছেন, তা সামনে আসা দরকার বলে জানান তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল। তবে তাঁরা জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন যাঁরা ভন্ডুল করেছেন, তাঁরা মীর জাফর।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আইনজীবী শিশির মনির ও জাহিদুর রহমান।