জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সরকার শুধু যে বিরোধী দলের ওপর আক্রমণ করছে তা নয়, সরকার তার অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যে আকাশ প্রমাণ দুর্নীতির মধ্য দিয়ে দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এর আরেকটি প্রমাণ মধ্যরাতে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া।’ তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে দেশের সমগ্র অর্থনীতির ওপর।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবহনভাড়া বেড়ে যাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল-ডাল-আটা-তেলের দাম আবার দ্বিগুণ থেকে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। মাঝখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কে? আমাদের সাধারণ মানুষ—যারা দিন আনে দিন খায়। এভাবে বারবার বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে, সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে।’

আইএমএফ থেকে সরকারের ঋণ চাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছে সাড়ে চার শত কোটি ডলার। কারণ, এত দিন ধরে যে মিথ্যাচার করে এসেছে, রিজার্ভে তাদের এমন টাকা আছে, এত ডলার জমা আছে যে তাদের কোনো চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু আজকে রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে আইএমএফ, এডিবি এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। তিনি বলেন, আইএমএফের ঋণের শর্ত খুব শক্ত। তারা বলছে, কোথাও সাবসিডি (ভর্তুকি) না দিতে ও তেলের ওপর ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতে; যেসব পণ্যের ওপর ভর্তুকি দেওয়া আছে, সেসব পণ্যের ওপর থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করতে। এর ফলে আজকে এটা করা হচ্ছে।

মানুষ এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চলছে, মানুষ এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে, মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এই সরকার ভয়াবহ দানবে পরিণত হয়েছে। তারা আজকে বাংলাদেশের সব অর্জন কেড়ে নিচ্ছে। সে জন্য এদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়াটাই হচ্ছে একমাত্র দেশপ্রেমিকের কাজ।’

ফয়সালা হবে রাজপথে

অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার বলে চক্রান্ত হচ্ছে—এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘চক্রান্ত তো করেন আপনারা। বারবার বলেছি, কী চক্রান্ত করছি বলেন। আমরা চক্রান্ত করি না। আমরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণের কাছে যাচ্ছি এবং তাদের নিয়ে আমরা রাজপথে ফয়সালা করব।’ এ লক্ষ্যে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাত্রদল নেতা নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিমের আত্মত্যাগ যাতে বৃথা না যায়, সে জন্য নেতা-কর্মীদের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমার শেষ কথা, হটাও হাসিনা, বাঁচাও দেশ, জনগণের বাংলাদেশ, টেকব্যাক বাংলাদেশ।’

default-image

টাটকা মিথ্যাচার

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ভোলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে নাকি অস্ত্র ছিল। এত বড় টাটকা মিথ্যাচার। তাদের হাতে কোন অস্ত্র ছিল? যদি থাকত তাহলে প্রযুক্তির এই যুগে তা গণমাধ্যমে আসত। আপনারা বিএনপিকে খুন করার যে লাইসেন্স পুলিশকে দিয়েছেন, সেই অস্ত্র দিয়েই নুরে আলম, আবদুর রহিমকে হত্যা করা হয়েছে।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতার পঙ্‌ক্তি আবৃত্তির পর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এই সরকারকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে। তবেই তারা লেজ গুটিয়ে পালাবে।

ছাত্রদলের আরেক সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘এদের (ক্ষমতাসীন দল) বিশ্বাস করা যাবে না। যেমন কুকুর তেমন মুগুর না হলে এই সরকারকে হটানো যাবে না।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, ‘আর জানাজা পড়তে চাই না। এবার আওয়ামী লীগের জানাজা পড়ব।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির, ফজলুল হক, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, কামরুজ্জামান রতন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী, আমিরুল ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন, মোনায়েম মুন্না, আবদুল কাদির ভুইয়া, শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রশীদ, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, ফজলুর রহমান, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম, আমিনুল হক প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম। সমাবেশ পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন