সেই দিনই বুঝেছিলাম শেখ হাসিনার পতন সুনিশ্চিত: সাদিক কায়েম

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। মধুর ক্যানটিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৭ জুলাই ২০২৬ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেদিন ছাত্রলীগমুক্ত হয়েছিল, সেদিনই পরিষ্কার হয়েছিল বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং শেখ হাসিনার পতন সুনিশ্চিত।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সাদিক কায়েম এ কথা বলেন।

ক্যাম্পাস নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডাকসুর উদ্যোগে ‘জুলাইয়ে সঞ্চারিত সাহস: গণরুম-গেস্টরুম পেরিয়ে নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

সভাপতির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে এখন কোনো গণরুম নেই, কোনো ধরনের গেস্টরুম নেই। পেশিশক্তির রাজনীতি (মাসল পাওয়ার পলিটিকস) নেই। জোর করে কাউকে প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়া বা অধিকার হরণ করার মতো অপরাজনীতি এখন আর নেই।

ডাকসু ভিপি বলেন, ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসে সহিংসতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট দূর করতে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ডাকসু কাজ করছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘১৭ জুলাইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী দিবস থেকে শিক্ষা নিন। আপনারা যদি সেই ছাত্রলীগীয় কায়দায় আবার কোনো সংগঠনকে ক্যাম্পাসের মধ্যে গণরুম–গেস্টরুম কালচার তৈরি করতে দেন...তাহলে আপনাদের জন্য খুবই খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে।’

হাসনাত ও সারজিসকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রতি যে প্রশ্ন রেখেছেন আবদুল কাদের, সেটা আপনারা স্পষ্ট করবেন। যদি আপনারা জুলাই ও আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকেন, সেটাও স্পষ্ট করবেন। আর যদি আপনাদের অবস্থান শেখ হাসিনার পতনের পক্ষে থেকে থাকে, তাহলে আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান—আপনারা আপনাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন। না হলে বাংলাদেশের মানুষ বিভ্রান্ত হবে।’

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক। মধুর ক্যানটিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৭ জুলাই ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তির পর হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম আন্দোলনের গতিবিধি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। একপর্যায়ে হাসনাত ও সারজিস অন্য সমন্বয়কদের বলেছিলেন, ‘তোমরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছ, বিএনপি-জামায়াতের পায়ে আন্দোলন করছ, কাদেরকে থামাও।’

আরও পড়ুন

আলোচনা সভায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিক বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিবিরের দূরত্ব তৈরি করতে একটি একমুখী বয়ান তৈরি করে রাখা হয়েছিল। তিনি ক্যাম্পাসের আবাসনসংকট দূর করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) ও এজিএসরা (সহসাধারণ সম্পাদক)।