‘এটাও আমাদের একটা বাড়ি’—ঢাকেশ্বরীতে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছাবিনিময়ে নাহিদ

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামছবি: নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পেজ থেকে

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আজ শুক্রবার পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আশীর্বাদ চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি এটাও আমাদের একটা বাড়ি—এই ঢাকেশ্বরী মন্দির। এখানে যেকোনো উৎসব-পার্বণে আমরা আসব। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের ক্ষুদ্র সক্ষমতা থেকে আমাদের সঙ্গে পাবেন।’

আজ শুভ জন্মাষ্টমী; ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি। এ উপলক্ষে সকালে এনসিপির নেতাদের নিয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যান নাহিদ ইসলাম।

এনসিপির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের সঙ্গে প্রত্যেকটা সম্প্রদায়েরই আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, ফলে প্রত্যেকটা সম্প্রদায়ের অধিকার, তাদের ধর্মীয় চর্চা-আচার যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সেটা আমরা সরকারে থাকি অথবা বিরোধী দলে থাকি। আমরা আমাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে এসেছি। রাজনৈতিক দায়িত্বের বাইরেও এটা একটা সামাজিক বন্ধন।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলাতেও যখন জন্মাষ্টমী হতো, দুর্গাপূজা হতো, তখন আমরা আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের বাসায় যেতাম। সেই জায়গা থেকে আসা।’ এই পবিত্র দিনকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

যে ধর্মমতেরই হোন, প্রত্যেকটা মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার কথা উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থাটা অনেক সংকটাপন্ন। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ এ দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর অতীতে বিভিন্ন সময়ে হামলা হয়েছে, সম্পদ লুটপাট হয়েছে। কিন্তু কখনো আসলে বিচার নিশ্চিত হয়নি।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলাম যাতে বিচারব্যবস্থাটা শক্তিশালী হয়, নিরপেক্ষ হয়, রাজনীতিমুক্ত হয়। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাগুলো বা যেকোনো সাধারণ নাগরিক যাতে আদালতে গিয়ে একটা সুষ্ঠু বিচার পায়, গণতন্ত্র নিশ্চিত হয়, আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয়।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গণতন্ত্রের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও সুরক্ষিত হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা দিনশেষে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। বাংলাদেশে যদি এটা সুরক্ষিত থাকে, এটার প্রভাব পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পড়বে। কারণ, পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই আমরা দেখি নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। সেটার প্রভাব আবার বাংলাদেশে এসে পড়ে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অন্য দেশে যা কিছুই হোক না কেন, আমাদের দেশের যে বৈশিষ্ট্য—আমরা সব ধর্মমত একসঙ্গে থাকব। এখানে বৈষম্য থাকবে না, মানবিক মর্যাদা থাকবে। সব ধর্মীয় জনগোষ্ঠী তাদের ধর্মীয় আচার নির্বিঘ্নে পালন করবে। এই বার্তাটাই আমরা দিতে এসেছি। আমরা অতীতে এসেছি, ভবিষ্যতেও আসব।’