ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির শূন্য আসনে এমপি হতে চান বিএনপির ৬৭ জন

নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ফাইল ছবি: প্রথম আলো

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ফরম কিনেছেন ৬৭ জন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মনোনয়ন ফরম নেওয়া নারীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠকেরা রয়েছেন। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাঁরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

ফরম সংগ্রহ করা নেত্রীরা বিগত আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে মূল্যায়নের আশা করছেন। তাঁরা সংসদে গিয়ে নিজের এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ চান। তবে একটিমাত্র আসনে এই উপনির্বাচন হবে বিধায় একজনকে মনোনয়ন দেবে বিএনপি।

বিএনপির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় নির্ধারিত ছিল। সংগ্রহ করা ফরম পূরণ করে আগামীকাল শনিবার একই কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফরম জমা নেওয়া হবে। দলীয় মনোনয়ন চেয়ে এই ফরম জমা দেওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে।

মিষ্টির শূন্য আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আলোচনায় আগে যাঁদের নাম এসেছিল, তাঁদের প্রত্যেকেই ফরম নিয়েছেন বলে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সহমানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার সানু ও আয়শা সিদ্দিকা মনি।

এ ছাড়া ফরম সংগ্রহ করেছেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকা, বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লা ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হীরা।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রবীন নারী নেত্রী জেলী চৌধুরী। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আসেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা ও সিমকী ইমাম খান। চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাবেক প্রচার সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদা আক্তার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা সৈয়দা আদিবা হোসেন, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেহানা আক্তার শিরিন প্রমুখ।

এই নেত্রীদের অনেকেই এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। কেউ সরাসরি সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের পর তাঁদের সামনে আবার সুযোগ এসেছে। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীর পাশাপাশি মহিলা দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংগঠকেরাও এবার মনোনয়ন চাইছেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা রুনা লায়লা বলেন, শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে বিগত দিনে তাঁর বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মাথায় গুলি লেগেছিল। ঢাকা উত্তরের সব অলিগলি তাঁর চেনা। দলের প্রয়োজনে তাঁকে বেছে নেওয়া হবে এবং এবার তিনি মূল্যায়ন পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।

রুনা লায়লা মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে বিগত আন্দোলনে নিজের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে এনেছেন। অন্যদিকে হাসনাহেনা হীরা বলেছেন, আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পর এখন তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। এ জন্য সরাসরি সংসদ উপস্থিত থেকে ভূমিকা রাখার সুযোগকে প্রয়োজনীয় মনে করছেন তিনি।

নিজের এলাকার পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে হাসনাহেনা হীরা বলেন, ‘এমনিতেই আমার এলাকা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমার এখন দায়িত্ব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করার। কিন্তু সরকারে সরাসরি না থাকলে সেটা বেশ কঠিন আমার জন্য। এ জন্যই আমি ফরম তুলেছি। আমার বিশ্বাস, দল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন মিষ্টি। তাঁর পদত্যাগের দিনই সংরক্ষিত নারী আসন–২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এ আসনের উপনির্বাচন হবে ১২ নভেম্বর। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর, বাছাই ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। বিএনপির জন্য বরাদ্দ আসন হওয়ায় দলটিই এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। ফলে ৬৭ জনের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, সেটিই এখন এই আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য নির্ধারণের মূল বিষয়।