বিএনপির সমাবেশে মানুষকে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ খণ্ডন করেছেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি এ ধরনের বাধার কথা যখন বলে, আমি তাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে বলি। ২১ আগস্টের সমাবেশে বিএনপি হামলা করেছিল। শাহ এম এস কিবরিয়ার সমাবেশে, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সমাবেশে, রায়ণগঞ্জের সমাবেশে ও আহসানউল্লাহ মাস্টারের সমাবেশে হামলা করেছিল বিএনপি। সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা করে তারা বহু মানুষকে হত্যা করেছে। তাদের আমলে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছিল যেন কেউ বাইরে যেতে না পারে। বিএনপি এখন যে সমাবেশ করছে, কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অপর দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশাসন বিএনপি যাতে সঠিকভাবে সমাবেশ করতে পারে, সে জন্য সহযোগিতা করছে। কিন্তু সমাবেশের নামে তারা অতীতে যেহেতু ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও জনজীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে, সে জন্য পুলিশকে সতর্ক থাকতে হয়। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের জানমালের নিরাপত্তাবিধান করা। সেটির স্বার্থে অনেক ক্ষেত্রে তল্লাশি করতে হয়েছে বা হচ্ছে।’

এ সময় তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সমাবেশের পুরোনো ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘দেখুন, আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপি নেতারা মঞ্চে সাজগোজ করে বসে আছে। আর আমরা যখন সমাবেশ করেছি, তখন আমাদের ওপর গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। আমি নিজেও গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে বহু দিন হাসপাতালে ছিলাম। এখনো ৪০টি স্লিন্টার আমার শরীরে আছে। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে পার্থক্য।’

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে চালানো গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব আনায় মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে জাতিসংঘ যাতে স্বীকৃতি দেয়, সে জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষকে যে হত্যা করা হয়েছে, ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন ঘটনা পৃথিবীতে কোথাও ঘটেনি। রুয়ান্ডার গণহত্যাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ১৯৭১ সালে। এটার স্বীকৃতি অবশ্যই হওয়া উচিত।’