নানা উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: উমামা ফাতেমা
একটি শক্তি নানা উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি (সহসভাপতি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা। তিনি বলেছেন, যারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে, তারাই ডাকসু নির্বাচনকে নানাভাবে বন্ধের চেষ্টা করছে।
সোমবার সন্ধ্যায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উমামা ফাতেমা এসব কথা বলেন।
এই ভিপি প্রার্থী বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন হয়েছে ১১ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহার হয়েছে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। ওই গোষ্ঠী চাইলে এই সময়ের মধ্যে রিট করতে পারত। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন যখন প্রায় ঘনিয়ে এসেছে, তখন তারা হাইকোর্টে রিট করেছে। এটা একটা ষড়যন্ত্রের অংশ। পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য শেষ মুহূর্তে এসে এই রিট করা হয়েছে।
উমামা ফাতেমা আরও বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের আর মাত্র আট দিন বাকি। এমন সময়ে এসে একটি রিটের জের ধরে হাইকোর্ট একটি আদেশে ডাকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে মিছিল করেছি এবং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে জানিয়ে উমামা ফাতেমা বলেন, ‘গতকাল রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর একই উপায়ে হামলা হয়েছে।’
ডাকসু নির্বাচনে এই ভিপি প্রার্থী বলেন, ‘আমরা মনে করি, কয়েক মাস ধরে যখন ডাকসু, চাকসু, রাকসুসহ নানা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রব উঠছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে ধাবিত হচ্ছিল, তখন আমাদের ক্যাম্পাসগুলো অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। গতকাল (রোববার) দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার জের ধরে আজ যখন ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা করা হয়েছিল, আমি মনে করি, এটা একই ধরনের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।’
উল্লেখ্য, ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল রোববার হাইকোর্টে রিট করেন তিন বাম ছাত্রসংগঠন সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম।
ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আজ ডাকসুর নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকার কার্যক্রম আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আদেশ দেন।