সরকারের একটা অংশ বিশেষ প্রার্থীদের জেতাতে চেষ্টা করবে: মির্জা আব্বাস

নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনে পায়ে হেঁটে গণসংযোগ করছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মালিবাগের শান্তিবাগ এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

সরকারের একটি অংশ নির্বাচনে বিশেষ কিছু দলের প্রার্থীদের জয়ী করতে নানা ধরনের চেষ্টা চালাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কাউকে দোষ দিতে না চাইলেও বাস্তবতা হলো সরকারের একটি অংশ বিশেষ প্রার্থীকে জেতাতে চেষ্টা চালাতে পারে। এতে তারা (বিএনপি) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আবার না–ও পারে। তবে দলের কর্মীদের মনোবল এতটাই শক্ত যে সব ধরনের চক্রান্ত মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হবে, ইনশা–আল্লাহ।’

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের প্রথম দিনে মালিবাগের শান্তিবাগ এলাকায় গণসংযোগে নেমে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে মির্জা আব্বাস জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী উল্লেখ করে বলেন, তিনি কখনোই নিরাশ হন না। অতীতের প্রতিটি সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি জয় পেয়েছেন। এবারও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আল্লাহর রহমতে জয় পাবেন।

সরকারি প্রভাব বা সম্ভাব্য ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘চান্স অব ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আছে। একজন রাষ্ট্রের প্রধান যখন আগেভাগে বলেন কে জিতবে, তার মানে চেষ্টা-তদবির থাকার সম্ভাবনা থেকেই যায়। আমার হাতে অনেক তথ্য আছে,যা প্রকাশ করলে প্রমাণ করা যাবে,কিন্তু আমি এখনই সেগুলো বলছি না।’

সরকারি প্রভাব বা সম্ভাব্য ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, কেউ হয়তো ভাবতে পারেন যে তিনি ভয় পাচ্ছেন, তবে সত্যি বলতে চান্স অব ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আছে।

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেন, একজন রাষ্ট্রের প্রধান যখন আগেভাগে বলেন কে জিতবে, তখন তার মানে থাকে যে চেষ্টা-তদবির থাকার সম্ভাবনা আছে। তাঁর কাছে এমন অনেক তথ্য আছে, যা প্রকাশ করলে প্রমাণ করা যাবে যে সরকারের একটি বড় অংশ বিশেষ কিছু প্রার্থীকে জেতাতে কাজ করছে, তবে তিনি এই মুহূর্তে সেগুলো প্রকাশ করছেন না।

শান্তিবাগে একটি উঠান বৈঠকে মির্জা আব্বাস
ছবি: প্রথম আলো

ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না জানানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেকেই শিষ্টাচারবহির্ভূত কথা বলছেন। কিন্তু আমার বয়স, অবস্থান থেকে তাঁদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন দেখি না। ওদের যা খুশি বলতে দিন। এতে আমার ক্ষতি নেই, বরং লাভই হবে। আমার রিয়েক্ট করার বয়স চলে গেছে। কেউ দুষ্টুমি করলে সেটা আমি ছোট ছেলের দুষ্টুমি হিসেবেই দেখি।’

এর আগে সকালে শাহজাহানপুর পারিবারিক কবরস্থানে মা–বাবার কবর জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন মির্জা আব্বাস। পরে নিজ বাসায় দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে মাঠে নামেন।

এদিকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে শান্তিবাগে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা। শান্তিবাগ এলাকার গলির রাস্তা বন্ধ করে সেখানে মঞ্চও তৈরি করা হয়েছিল। তবে মির্জা আব্বাসের বিএনপির একটি জরুরি সভায় যোগ দিতে হবে জানিয়ে আয়োজকেরা বলেন, তিনি উঠান বৈঠকে থাকবেন না, তবে এলাকায় হেঁটে গণসংযোগ করবেন। বেলা দেড়টার দিকে মির্জা আব্বাসে সেখানে পৌঁছালে নেতা–কর্মীরা ‘আব্বাস ভাইয়ের মার্কা ধানের শীষ’, ‘আব্বাস ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’সহ নানা স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানান।

সেখানে মির্জা আব্বাস বলেন, এলাকার মানুষের সামাজিক–রাজনৈতিক স্বাচ্ছল্য নিশ্চিত করাই হবে তাঁর অঙ্গীকার। এলাকাবাসীর প্রয়োজনীয় কাজগুলোই তিনি করবেন। শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য তিনি কথা বলেন না।

ঢাকা-৮ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৮ থেকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৯ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এতে পুরানা পল্টন, শাহজাহানপুর, শান্তিনগর, নয়াপল্টন, বিজয় নগর, আমিনবাগ, চামেলীবাগ, রাজাবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

এই আসনে জামায়াত–সমর্থিত ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।