‘আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাবে’—বিএনপি নেতাদের এ বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পালানোর ইতিহাস তো বিএনপির। তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া মুচলেকা দিয়ে বিদেশ চলে গেছেন। মুচলেকা দিয়ে তারেক জিয়া বলেছেন, তিনি আর রাজনীতি করবেন না; এবং তাঁর সঙ্গে আরও অনেকে পালিয়ে গেছেন।’

বিএনপির সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘আজ শুধু সরকারে নয়, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষকসহ দেশের সব পেশার মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আগের তুলনায় অনেক গভীরে প্রোথিত হয়েছে। এটাই বিএনপির গাত্রদাহ। কারণ, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। যে দলের মহাসচিব বলেন, পাকিস্তান আমলই ভালো ছিল, তারা কোন চেতনায় বিশ্বাস করে তা সহজেই অনুমেয়। তারা আসলে পাকিস্তানের পক্ষে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করা থেকে বিএনপি বিরত থাকলে তাদের সভা–সমাবেশ নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। সরকার এ ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করছে এবং সেই কারণেই তারা সমাবেশ করতে পারছে।’

আওয়ামী লীগের বিরোধী দলে থাকার ইতিহাস উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শেখ হাসিনার জনসভায় বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুড়ে হামলা করা হয়েছিল। ২৪ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগ অফিসের দুই পাশে কাঁটাতারের স্থায়ী বেড়া ছিল, তার বাইরে আমাদের যেতে দেওয়া হতো না। শেখ হেলালকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর জনসভায় হামলা করে কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছিল। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় হামলা করা হয়েছিল। এস এম কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারের জনসভায় হামলা করে তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল। এভাবে আমাদের শত শত নেতকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির সমাবেশে তো বোমা বা গ্রেনেড দূরে থাক, একটি পটকাও ফোটেনি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংস্কৃতিমনা মানুষ। তাঁর নির্দেশে নতুন সিনেপ্লেক্স, সিনেমা হল নির্মাণ ও পুরোনো হল সংস্কারের জন্য এক হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল গঠিত হয়েছে। কেউ যদি মার্কেটে সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করতে চান, ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ব্যাংকগুলোকেও আমরা ঋণ দিতে উদ্বুদ্ধ করব।

বাচসাস সভাপতি রাজু আলীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মোল্লা জালাল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী পাভেল রহমান, চিত্রনায়ক ওমর সানী ও বাচসাস সাধারণ সম্পাদক রিমন মাহফুজ।

নতুন কমিটির যাত্রা

২০২২-২৪ মেয়াদে রাজু আলীম বাচসাসের সভাপতি ও রিমন মাহফুজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সহসভাপতি অঞ্জন রহমান ও রাশেদ রাইন, সহসাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল, অর্থ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম মিলন, আন্তর্জাতিক ও গবেষণা সম্পাদক রেজাউর রহমান, সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আনজুমান আরা শিল্পী, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক ইরানি বিশ্বাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হুরায়রা, দপ্তর সম্পাদক আহমেদ তেপান্তর আওয়াল দায়িত্ব নিয়েছেন।