জকসু নির্বাচন
হেনস্তার অভিযোগ শিবির–সমর্থিত ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীর, ছাত্রদল বলছে বহিরাগত ঢোকানোকে কেন্দ্র করে হট্টগোল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য পরিষদের’ সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তা করে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
ছাত্রদল বলছে, পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় ও জামায়াতের তিন নারী কর্মীকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে সহায়তা করায় পুলিশ মাহিমা আক্তারকে আটক করেছে। পুলিশ বলেছে, প্রাক্তন শিক্ষার্থী হয়েও নির্বাচনের প্রচার চালান মাহিমা আক্তার। তাঁকে হেনস্তার ঘটনা ঘটেনি। জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিভাবকের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মাহিমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলাম। তখন ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে আমাকে হেনস্তা করে। সঙ্গে আমার এক আত্মীয় ছিল। আমরা গেটের বাইরেই অবস্থান করছিলাম। এ সময় আমি হিজাব পরিহিত থাকায় আমাকে হিজাব ও মাস্ক খুলতে বলে।’ আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান মাহিমা আক্তার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাহিমা আমার স্ত্রী ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বাইরে আমাদের প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন। মাহিমা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করার সময় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা মব সৃষ্টি করে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ফটক দিয়ে জামায়াতের তিন নারী কর্মী ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা প্রথমে নির্বাচন কমিশনের লোক এবং পরে আইনজীবী পরিচয় দেন। সে সময় মাহিমা আক্তার এসে তাঁদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা মাহিমা আত্তারের কাছে কার্ড দেখতে চাইলে সে সময় তিনি দেখাতে পারেননি। পরে তাঁদের পুলিশ আটক করে।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি। উনি প্রাক্তন শিক্ষার্থী হয়েও প্রচার চালাচ্ছিলেন। পরে কয়েকজন শিক্ষক আমাদের জানালে আমরা তাঁকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে আসি। কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পরে আমরা তাঁকে ছেড়ে দেব।’
বেলা তিনটার কিছু আগে ওসি মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, থানায় আনার কিছু সময় পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহিমা আক্তারকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক প্রথম আলোকে বলেছেন, বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।