সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান৷ তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে জনমনে বিক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে৷ এই অসন্তোষ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে৷ বর্তমান সরকার রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসেছে৷ মিথ্যাচার তাদের নিত্যসঙ্গী৷ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশে পেট্রল-অকটেন নাকি আমদানি করতে হয় না৷ অথচ এর কয়েক দিনের মধ্যেই রাতারাতি এগুলোর দাম বেড়ে গেল৷ এই সরকারকে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না৷ কারণ, সেই সুযোগ তারা রাখেনি৷ ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে তারা দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে৷ সরকার নিজেদের লুটপাটের দায় জনগণের ঘাড়ে চাপাচ্ছে৷

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক ও অন্যায় বলে মন্তব্য করেন মশিউর রহমান খান৷ তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা চাপিয়ে দিয়েছে। চলমান সংকটের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিলেও এর জন্য দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের জ্বালানি নীতিকে দায়ী করছেন৷ নিজস্ব উৎসের সদ্ব্যবহারের দিকে না গিয়ে তারা গিয়েছে আমদানির দিকে৷ তাদের লুটপাটের জন্যই মানুষকে খেসারত দিতে হচ্ছে৷ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে গণবিরোধী এই সরকার আজ গণদুশমনে পরিণত হয়েছে৷ এই সিদ্ধান্ত থেকে তাদের সরে আসতে হবে৷

সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, চলমান লুটপাটের মধ্যেই সরকার নতুন করে লুটপাটের ফন্দি এঁটেছে৷ আগে কৌশলগত জ্বালানির (পেট্রল-অকটেন-ডিজেল) দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হতো৷ কিন্তু এবার তা করা হয়নি৷ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে সাফাই গাইছেন৷ সমাজে গণতন্ত্র না থাকলে জনগণের নাগরিক মর্যাদা থাকে না, তারা প্রজাতে পরিণত হয়৷ আজ বাংলাদেশে জনগণ ও শাসকদের মধ্যে রাজা-প্রজার সম্পর্ক কায়েম হয়েছে৷ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে৷ তাই জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই৷

গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, ‘দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি৷ বর্তমান সরকার রাতের অন্ধকারে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে৷ তাই মানুষের কথা তারা ভাবে না৷ ভাবে শুধু লুটপাটের কথা৷ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব৷ এই আন্দোলনে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই৷’

ছাত্র ফেডারেশন নেতা অনুপম রায়ের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে কৃষক-মজুর সংহতির নেতা জাফর মোহাম্মদ, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা হাসান আল মেহেদী, ফারহানা মুনা ও রাজা আহমেদ বক্তব্য দেন৷ সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে হাতিরপুলে গণসংহতির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত মশালমিছিল হয়৷

‘শাহবাগ মোড় অবরোধ’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পৌনে এক ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী৷ আজ সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে সাতটা পর্যন্ত তাঁরা শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন৷ এ সময় কিছু কিছু গাড়ি চললেও যান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হয়৷ অবরোধ প্রত্যাহার করতে পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় অনুরোধ করে৷

সন্ধ্যা সাতটার দিকে অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার চাই৷ গণপরিবহনে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধিও প্রত্যাহার চাই৷ জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা শাহবাগ মোড় থেকে সরে যাচ্ছি৷’ এরপর শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে আবার শাহবাগে ফিরে মিছিলটি শেষ হয়।

এদিকে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দুটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট৷ সংগঠন দুটি হলো ছাত্র ইউনিয়ন (ফয়েজ উল্লাহ-দীপক শীল) ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ)৷ সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ মিছিলও হয়৷

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন