জুলাই সনদ ও সংস্কারকে বিতর্কের বিষয় না বানিয়ে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিন: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নিয়মিত বৈঠক হয়। পুরানা পল্টন, ঢাকা; ২৮ এপ্রিল ২০২৬ছবি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৌজন্যে

জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার কার্যক্রমকে বিতর্কের বিষয়বস্তু না বানিয়ে তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নিয়মিত বৈঠকে ইউনুছ আহমাদ এই আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদ রক্তস্নাত একটি তাৎপর্যপূর্ণ দলিল। এ দলিল তৈরিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠনের অবদান ছিল। এই দলিল দেশকে স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্ত করার একটি প্রতিজ্ঞা। সরকার যেন জুলাই সনদকে রাজনীতি ও বিতর্কের বিষয়বস্তু না বানিয়ে সনদে বর্ণিত সংস্কার সাধনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে অতি রাজনীতির পরিণতি আমরা দেখেছি। অতি রাজনীতির ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির মধ্যে বিভাজনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। দলীয় স্বার্থের বিপক্ষের সবাইকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হতো। জুলাই নিয়ে আমরা কোনো অতি রাজনীতি দেখতে চাই না। জুলাই আমাদের সবার। জুলাইয়ের প্রতি দায়বদ্ধতাও সবার।’

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়া ছিল স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপ। সেই লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকার তার অনেকগুলো সংসদে অনুমোদন করেনি, যা জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে। সরকারের কার্যত মুখপাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়গুলোতে নতুন আইন প্রণয়নের কথা বলেছেন। জারি হওয়া অধ্যাদেশ সংশোধনের পথে না হেঁটে বিলোপ করে দেওয়া সন্দেহজনক।

ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই যে গুম, মানবাধিকার, দুদক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত আইন তৈরি করবে। সরকার গণভোটের আলোকে উচ্চকক্ষ গঠন করবে। সরকার এর ব্যত্যয় করলে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে। আর রক্তের সঙ্গে গাদ্দারির ফল কখনো ভালো হয় না।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আশরাফুল আলম ও মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আলহাজ আবদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম প্রমুখ।