তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক আর না থাকুক, আমরা রাজপথের দল। আজ সারা দেশে লাখ লাখ আওয়ামী লীগ কর্মী রাজপথে নেমেছে। মির্জা ফখরুল সাহেবদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, এটা দেখে তাঁরা ভীত হয়ে পড়েছেন।’

‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করেছে’—বিএনপির নেতাদের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিই দেশে গণতন্ত্রের হত্যাকারী। তাদের জন্ম অগণতান্ত্রিকভাবে।

বঙ্গবন্ধুর লাশের ওপর, মানুষের লাশের ওপর পাড়া দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, হাজার হাজার সেনাসদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে, ২২ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে।’

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল–২০২৩’ নামে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটি নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দেশকে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মতো জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতেই এ বিল পাস করেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাই বলুক, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আজ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং সারা বিশ্বে প্রশংসা পাচ্ছে। আমাদের মাথাপিছু আয় বহু আগে পাকিস্তানকে এবং করোনার মধ্যে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। ১৪ বছর আগে দেশ বিশ্বে ৬০তম অর্থনীতির দেশ ছিল, এখন আমরা ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।’

এর আগে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের (ফ্যাব) প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেন। চলচ্চিত্রকার নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, তারিক আনাম খান, গাউসুল আলম শাওন, পিপলু আর খান, নূর সাফা জুলহাস, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত এ আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রশিল্প ও সাংস্কৃতিক জাগরণকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ফিল্ম অ্যালায়েন্স প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চলচ্চিত্রশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার স্বল্পসুদে এক হাজার কোটি টাকার ঋণসুবিধা চালু করেছে, চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট করেছে, অনুদানের অর্থ ও সংখ্যা বাড়িয়েছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, আগে গ্রামে-গঞ্জে, শহরের পাড়ায় পাড়ায় সংস্কৃতিচর্চা হতো। নাটক-যাত্রাপালা হতো। সেগুলো আবার ফিরিয়ে আনতে সাংস্কৃতিক জাগরণ দরকার। কারণ, সংস্কৃতিচর্চা মানুষ ও সমাজকে মৌলবাদ ও পশ্চাৎ–মুখিতা থেকে দূরে রাখে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।