বিএনপি হচ্ছে ব্যর্থ আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ হলো সফল বিএনপি: সারোয়ার তুষার

‘সংবিধান ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক সভায় আলোচকেরা। ডাকসু ভবন প্রাঙ্গণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৯ এপ্রিল ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

ক্ষমতা কুক্ষিগত (গ্রাস) করা থেকে শুরু করে বিএনপি যা যা করতে চেয়েছে, তা করতে পারেনি। তারা রাস্তা দেখিয়েছে, ওই রাস্তায় সফলভাবে আওয়ামী লীগ হেঁটেছে। সে জন্য আওয়ামী লীগ হতে পেরেছে সফল বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপি আওয়ামী লীগ হতে চায়, কিন্তু পারে না, তাই তারা ব্যর্থ আওয়ামী লীগ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

‘সংবিধান ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম।

বিএনপির উদ্দেশে সারোয়ার তুষার বলেন, যখন গণভোট হয়ে গিয়েছে, তখন তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গণভোটকে তারা মানবে না। এখন গণভোট না মানার জন্য তো একটা ঢাল ব্যবহার করতে হবে। সেই ঢালটা হলো জুলাই সনদ। আল্টিমেটলি জুলাই সনদও কিন্তু তারা মানবে না, জুলাই সনদ তারা বাস্তবায়ন করবে না।

বাহাত্তরের সংবিধান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কোনোভাবেই পরিপূর্ণভাবে ধারণ করে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান একাত্তরের চেতনা সংরক্ষণ ও বাহাত্তরের বিচ্যুতি সংশোধন করার উদ্দেশ্যে ঘটেছে।

মামুনুল হক বলেন, ‘বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত যতটুকু না বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা যারা এন্টি-ভারতীয় (ভারতবিরোধী) এবং এন্টি-আওয়ামী (আওয়ামী লীগবিরোধী) শক্তি রয়েছি, তারা। এ জন্য বিএনপির প্রতিটি ভুল আমাদেরকে প্রচণ্ডভাবে কষ্ট দেয়।’

আজ এই মুহূর্তটি স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য একটি ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করার চেষ্টা করলে, তা দেশের জন্য ভালো হবে না। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে একটি বড় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বিচার বিভাগ এবং পার্লামেন্টের মধ্যে একটি ক্ল্যাশ (সংঘাত) তৈরি হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন থাকতে চান, অথচ পার্লামেন্ট স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইছে। এই পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক।

আলোচনা সভায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আমাদেরকে প্রতিদিন আইন শেখান, যেন বাংলাদেশে ওনাদের মতো আইন বোঝা মানুষ নেই। আমি আর শিশির মনির বাংলাদেশ সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে গেলাম অন কনস্টিটিউশন (সংবিধানে আলোকে)।’

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আরও বলেন, ‘গত পরশু দিন কীভাবে আমার ক্রিকেট বোর্ড দখল করে ফেলল বিভিন্ন সংসদ সদস্যের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে এ ধরনের লোক দিয়ে। বলা ছিল প্রজাতন্ত্রের কথা কিন্তু আপনারা কায়েম করলেন পারিবারিক রাজতন্ত্র। আমরা আপনাদের সতর্ক করছি, নিজেদের পথ সংশোধন করে নেন। আপনারা আমাদের শত্রু রাজনৈতিক দল নয়।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা তাসনিম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, সমকাল পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব আহাম্মদ, ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েমসহ ডাকসু অন্য সদস্যরা।