ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির উন্মুক্ত ডেটাবেজের জন্য আইনি কাঠামো প্রণয়ন কেন নয়

হাইকোর্ট ভবনফাইল ছবি

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির বিষয়ে তথ্যসংবলিত উন্মুক্ত ডিজিটাল বা অনলাইন ডেটাবেজ (তথ্যভান্ডার) ব্যবস্থাপনায় আইনসম্মত ও কার্যকর কাঠামো প্রণয়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রুল দেন।

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য উন্মুক্ত ডিজিটাল বা অনলাইন ডেটাবেজ (অনলাইন তথ্যভান্ডার) ব্যবস্থাপনা ও দণ্ডিত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর তথ্যভান্ডারে সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে—এমন আইনি ও কার্যকর কাঠামো প্রণয়ন বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ জুলাই রিটটি করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহমিদা আখতার আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।

পরে আইনজীবী ফাহমিদা আখতার প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কোনো ব্যক্তিকে কোনো কাজে নিয়োগ দেওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ডের (আগের কর্মকাণ্ড) ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার সুযোগ থাকে না। যেমন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক, গৃহশিক্ষক ও বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়োগসহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের যে ব্যাকগ্রাউন্ড বলল বা উপস্থাপন করে থাকে—এর বাইরে জানার সুযোগ কম।

যে কারণে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য অনলাইন ডেটাবেজ (তথ্যভান্ডার) যাতে পাওয়া যায়, সে জন্য রিটটি করা হয় বলে জানান রিট আবেদনকারী আইনজীবী ফাহমিদা আখতার। তিনি বলেন, ডেটাবেজ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানা যাবে ও পরিচিত হওয়ার আগে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তার ইতিহাস আছে কি না, সে বিষয়ে সত্যতাও যাচাই করা যাবে। পাশাপাশি পাবলিক স্ক্রুটিনি (সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ), স্যোশাল স্টিগমা (সামাজিক কলঙ্ক) ও সামাজিকভাবে বর্জনের ভয় থেকে অপরাধের সংখ্যাও কমবে।

স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব এবং তথ্য ও প্রযুক্তিসচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান ফাহমিদা আখতার।