মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনলেন আসিফ মাহমুদ
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এ অভিযোগ তুলে বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না কি, বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো প্রশাসনের একতরফা আচরণ, রাতের ভোট—এ ধরনের একটি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হয়ে যাবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এনসিপির মুখপাত্র জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করা না হয়, সে বিষয়ে তাঁরা সিইসিকে বলেছেন। বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধিভঙ্গের নমুনা তাঁরা সিইসির কাছে তুলে ধরেছেন। জাতীয় পার্টি এবং ফ্যাসিবাদের দোসর কেউ যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে বলেছেন।
এ ধরনের ধৃষ্টতা মানা হবে না
আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, যদি প্রশাসন, সরকার বা রাজনৈতিক দল পুরোনো ব্যবস্থায় সমঝোতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাবনাকে নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে তাঁরা (এনসিপি) নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বসে থাকবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা আবার রাজপথে নামবেন।
বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ‘একটা পার্টি অফিসের দিকে তাদের কেবলা’ ঠিক করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, তাঁরা সেখানে নিয়মিত যাচ্ছেন। এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ের চর্চাগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অভিযোগ করে আসিফ বলেন, বাংলাদেশে সব সময়ই ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রশাসনের ঝোঁক থাকে। কিন্তু ক্ষমতাসীন হওয়ার আগেই এ ধরনের ধৃষ্টতা মেনে নেওয়া হবে না। যেসব সরকারি কর্মকর্তা একটি দলের কার্যালয়ে গিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি ইসি ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মানুষ জিজ্ঞেস করে নির্বাচন হবে কি না
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাস্তায় বের হলে এখনো মানুষ জিজ্ঞেস করে নির্বাচন হবে কি না। এটা সরকার ও ইসির ব্যর্থতা যে তারা এখন পর্যন্ত মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা আছে। যখন এ বিষয়গুলো নিয়ে শঙ্কা থাকে, তখন মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ পান না।
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা নাকি নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, সবকিছু নিয়েই শঙ্কা রয়েছে। তবে গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জ, এটা সরকার, ইসি, জনগণসহ সব অংশীজনের দায়িত্ব। তবে এই নেতৃত্বটা দিতে হবে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে।
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক বলে তিনি মনে করেন। তফসিলের পরদিনই একজন চিহ্নিত আসামির হাতে ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। এ কারণেই নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে আরও বেশি শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেভাবে দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে না।