বুড়িগঙ্গার ঐতিহ্য ফেরানোর প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

সোমবার প্রচারের শেষ দিনে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানছবি: প্রথম আলো

নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে বুড়িগঙ্গা নদী সংস্কার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি সম্পূর্ণ কলুষিত হয়ে গেছে। এই নদীকে আমাদের সুন্দরভাবে আবার পরিষ্কার করতে হবে, যাতে এই এলাকার (পুরান ঢাকা) মানুষ যেই বুড়িগঙ্গাকে নিয়ে গর্ব করত, সেই গর্বকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারি।’

সোমবার রাতে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন।

জনসভায় দেশ গড়তে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের যে অঞ্চলে যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আছে, সেখানে সে অঞ্চলের উপযুক্ত করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে, যাতে সে এলাকার যুবকদের, তরুণদের, নারীদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’

দেশের বেকারত্ব সমস্যার ওপর জোর দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যখনই তাঁর কথা হয়েছে, তিনি তাঁদের দেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আহ্বানে রাষ্ট্রদূতেরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়তে সারা দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলব, যাতে তাঁরা দেশে হোক, বিদেশে হোক—নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’

নারীশিক্ষার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জনসভায় জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এ দেশের ছেলেমেয়েরা যেমন লেখাপড়া শিখে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার হবে। একইভাবে সারা দেশে বহু প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে আছে, যারা বিভিন্ন খেলাধুলায় পারদর্শী। তাদের দক্ষ ও পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং গণতন্ত্রকে ছিনিয়ে আনতে জুলাই-আগস্ট মাসে বহু শহীদ আত্মত্যাগ করেছেন। গত ১৬ বছর বিএনপির বহু নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের এই ত্যাগকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।