বিএনপির সাত সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলেও সরকার পতন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘১০ ডিসেম্বরের খেলায় আমরা জিতে গেছি।’ আজ সোমবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম নগরের জিমনেসিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত এ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের (বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ হয়েছে) খেলায় আমরা জিতে গেছি। খেলা হবে, নির্বাচনেই ফাইনাল খেলা হবে। নির্বাচন হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। দুর্নীতিবাজ তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে খেলা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল আবারও সরকার গঠন করবে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপির সাত সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলে সরকার পতন হয় না। ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা আছে।
বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। আরে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরে ভূত হয়ে গেছে। সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই।
১ দফা দিতে এসে ১০ দফা দিয়ে গেছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ১০ ডিসেম্বর সরকারের পদত্যাগ ঘটাতে এসে নিজেরা পদত্যাগ করে গেছে বিএনপি। তাতে সরকারের একটু কাতুকুতু লেগেছে। ১ দফা দিতে এসে ১০ দফা দিয়ে গেছে। বিএনপির পতন ১০ তারিখ হয়ে গেছে।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, দলের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম।
এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৩ জুলাই নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সম্মেলনে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে সভাপতি এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ (বর্তমান সভাপতি) সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে আতাউর রহমান খান কায়সারের মৃত্যুর পর প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর আখতারুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোছলেম উদ্দিন আহমদকে সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিই বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে।