ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাদক মামলায় সভাপতির শাস্তি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের (ইমরান হোসেন) বিরুদ্ধে বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। তাই আমরা পুরো কমিটি বাতিল করেছি।’

মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, ২০১১ সালের ২৫ মে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ প্রিন্স ইসমাইল খালেক ও ইফতেখার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২। এ ঘটনায় র‍্যাব কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ১৬ জুন দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম গত সোমবার দুই আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন।

এদিকে নিউমার্কেট থানা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া সাইফের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে মারামারি ও মোবাইল চুরির অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এ ধরনের মামলার আসামিরা কীভাবে কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এদের কারণে ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

মাদক মামলায় শাস্তি হওয়ায় সভাপতির জায়গায় সহসভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও অস্ত্র নিয়ে মারামারি করার মামলা থাকার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব দেওয়ার আগে এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয় কি না জানতে চাইলে সাইদুর রহমান বলেন, ‘সাইফের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউ মার্কেট থানা ছাত্রলীগের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, প্রিন্স ইসমাইল খালেক আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী। তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সাইফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, সাইফের বিরুদ্ধে মামলা থাকার অভিযোগ ওঠার পর ওই প্রভাবশালী নেতা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে বকাবকি করেন। ওই নেতা বলেন, মামলা থাকার কারণে প্রিন্স ইসমাইল খালেককে অব্যাহতি দিয়ে আবার মামলার আসামিকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হলো। এ জন্যই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মারামারির মামলা ছিল। আদালতের রায়ের মাধ্যমে ওই মামলা থেকে আমি অব্যাহতি পেয়েছি। আমার নামে এখন আর কোনো মামলা নেই।’ মোবাইল চুরির মামলা থাকার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

কমিটি বাতিলের কারণ প্রসঙ্গে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির এই সহসভাপতি বলেন, সভাপতির সাজা হওয়ায় আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনের মাধ্যমে এখন নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে, বিবাহিত হয়েও পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন সরাসরি কোনো জবাব দেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যদি বিবাহিত হয়ে থাকি তাহলে আমাকে কেন ছাত্রলীগের এত গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছেন, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলুন।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন