ঢাকায় কালো পতাকা মিছিল করতে পারেনি বিএনপি

উত্তরা ১২ নম্বরে পুলিশের বাধায় পন্ড হয়ে যায় বিএনপির কালো পতাকা মিছিল। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঢাকা, ৩০ জানুয়ারিছবি :প্রথম আলো

ঢাকার সাত স্থানের কোথাও কালো পতাকা মিছিল করতে পারেনি বিএনপি। ‘অবৈধ ডামি নির্বাচন’ বাতিল ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে কালো পতাকা মিছিল করার কর্মসূচি ছিল দলটির।

বিএনপির নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের বাধায় তাঁরা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি।

পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি চারটি স্থানে কালো পতাকা মিছিল করার কথা ছিল। এই চার স্থান হলো মতিঝিল পীরজঙ্গী মাজার এলাকা, ধানমন্ডির নিউমার্কেট এলাকা, যাত্রাবাড়ীর কদমতলী বাসস্ট্যান্ড ও সূত্রাপুরের দয়াগঞ্জ মোড়। আর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ঘোষণা ছিল তারা শাহজাদপুরে, উত্তরা ১২ নম্বর এবং মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন মসজিদের সামনে মিছিল করবে।

বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সাত জায়গার কোথাও তাঁরা কালো পতাকা মিছিল করতে পারেননি। কেবল দুটি স্থানে দুই থেকে তিন মিনিটের ঝটিকা মিছিল করতে পেরেছেন। এর মধ্যে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর এলাকায় নেতা–কর্মীরা জড়ো হতে চাইলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। সেখান থেকে কয়েকজন নেতাকে আটক করার অভিযোগ করেছে বিএনপি। সেখানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানকে আটকের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশের উত্তরা পশ্চিমের এডিসি সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তারা (বিএনপি) সমাবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এটা ছিল অনুমোদনহীন। তারা দরখাস্ত করেছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে এটা অনুমোদন করা হয়নি। যে কারণে আমরা ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। ৮ থেকে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, মঈন খানকে কেউ আটক করেনি। তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সূত্রাপুরে আড়াই মিনিটের ঝটিকা মিছিল করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ওই কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরী ও ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আজিমপুর এলাকায়ও জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে গেলে পুলিশের বাধায় ওই কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। আর কদমতলী এলাকায় পুলিশ বিএনপির নেতা–কর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাইদুর রহমান বিকেল পৌনে চারটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, কদমতলীতে নেতা–কর্মীরা জড়ো হতে গেলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। পীরজঙ্গী মাজার এলাকাতে দাঁড়াতে দেয়নি। পীরজঙ্গী এলাকায় কর্মসূচি করতে না পেরে বিজয়নগর এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছেন নেতা–কর্মীরা। সেখান থেকে পাঁচজন আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া আজিমপুর থেকে ১৫ জন ও দয়াগঞ্জ এলাকায় মিছিল শেষে ফেরার পথে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মতিঝিলের পীরজঙ্গী মাজার এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের। তিনি বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে গিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে কর্মসূচির জন্য জায়গা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু চারদিকে পুলিশের বাধায় নেতা-কর্মীরা দাঁড়াতে পারেনি। আমি শুনেছি, তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বর্তমান সংসদকে বৈধ বলতে পারি না। তাদের আত্মতৃপ্তি তারা সরকার গঠন করেছে। কিন্তু আমাদের এক দফার আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা জনগণকে একত্র করতে পেরেছি। শতকরা ৯০ ভাগ লোক আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের সম্পৃক্ত করে আগামীতে লক্ষ্য অর্জন করব।’