স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসুন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনফাইল ছবি: বাসস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ভোটে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেছেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেবেন।’

বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে এ ভাষণ দেন সিইসি। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

বহুপ্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের। আরও স্মরণ করছি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। আমি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমি একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধাদের আশু আরোগ্য ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য দোয়া করছি।’

সিইসি বলেন, এই নির্বাচনে ভোটদান শুধু নাগরিক অধিকারই নয়; বরং দায়িত্ব। তিনি আশা করেন, সবাই সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত একটি স্বাভাবিক বিষয়। এ বিষয় স্মরণে রেখে সবাই উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়–পরাজয়কে মেনে নেবেন।

ব্যক্তিগত কষ্ট-ক্লেশ তুচ্ছ করে জাতীয় নির্বাচনের এই মহতী ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করে সার্থক করে তুলতে ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অনুরোধ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

শেষে ভোটারদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করুন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারব—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’