তারেক রহমানকে নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ বিএনপির

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেছবি: প্রথম আলো

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। দলটির দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান আবার ছড়িয়ে দিয়ে একই ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফরে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী, সমর্থক, ভোটার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসমর্থনের মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুস্থ প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর কৌশল বেছে নিয়েছে।

আরও পড়ুন

মাহদী আমীন বলেন, নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার বরিশাল ও ফরিদপুরে যাচ্ছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা ১১টায় আকাশপথে ঢাকা থেকে বরিশালে গিয়ে দুপুর ১২টায় বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। বেলা একটায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। সমাবেশ শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনী দায়িত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি। দলটির মতে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক বিএনসিসি ক্যাডেট কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়ে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন না করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকে ৩৪ হাজার ৪৪২ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন।

বিএনপির অভিযোগ, কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থার নেতৃত্বে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। এ বিষয়টি নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দুটি দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দাবি দুটি হলো ১. পর্যবেক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া। যেসব সংস্থার নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা কম, তাদের পর্যবেক্ষকসংখ্যা কমানো। ২. কোনো ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে দুজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা জারি করা।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে আসছে। দলটি ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০ উপস্থাপন করে। পরে ২০২২ সালে ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থায় ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব প্রথম তাদের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল।

মাহদী আমীন আরও বলেন, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দলটি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের ভোটাধিকার ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।