সামাজিক অবক্ষয় রোধে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা: পরিবেশমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে।

সামাজিক অবক্ষয় রোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দেশের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় এক দিনে ঘটে না। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে সঠিকভাবে সমাজকে খাপ খাওয়াতে হয়। এর দায়িত্ব পিতা-মাতা, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্রের।’

মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সরকারি কার্যাবলির তদারকি ও সমন্বয়-সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিবেশমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর জেলার তদারকির দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম সভা।

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সব সমস্যা শুধু রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও দেশের কল্যাণে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।’ এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি কাজ করার নির্দেশনা দেন।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ২০৮টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ২৬টি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ৬৬টি এবং অন্যান্য অপরাধ ৯১টি।

একই মাসে (আগস্ট) জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৮৫২টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে মোট অমীমাংসিত (পেন্ডিং) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৪টি। পরোয়ানা তামিলের হার আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবেশ সুরক্ষায় জেলার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানানো হয়, গত এক বছরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে ৬৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন আইনে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে জমির ওপরের মাটি (টপসয়েল) কাটা বন্ধে ৬৬টি অভিযানে ৫৯টি মামলা ও ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নদী-খাল ও পরিবেশ রক্ষা এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়।

মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মোট ৯৮৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ১৮৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ৫১টি নিয়মিত মামলাসহ মোট ২৪০টি মামলা হয়েছে। এ সময় ১৭ হাজার ২৫০টি ইয়াবা বড়ি এবং ২৮ দশমিক ৮৫৯ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক আলোচনা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি খাল-বিল ও নদ-নদী দূষণ, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় জেলার চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল, অবৈধ ইটভাটা, মাদক ও পরিবেশদূষণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ বাহারুল আলমসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।