বিএনপির মোবাশ্বের আলমের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলল

হাইকোর্টফাইল ছবি

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিলের সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মোবাশ্বেরের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদেশের পর মোবাশ্বেরের অন্যতম আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

অবশ্য ইসির আইনজীবী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মোবাশ্বের আলমকে নির্বাচন অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ঋণখেলাপি ও দলীয় প্রত্যায়নপত্র জমা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়পত্র ৩ জানুয়ারি বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ১৮ জানুয়ারি মোবাশ্বেরের আপিল নামঞ্জুর করে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ১৯ জানুয়ারি রিট করেন তিনি।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ও সৈয়দ মামুন মাহবুব এবং আইনজীবী ফখরুল ইসলাম, জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও এস এম শামীম হোসেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

মোবাশ্বেরের অন্যতম আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ঋণখেলাপি ও দলীয় প্রত্যায়ন নেই—এই দুই গ্রাউন্ডে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। মোবাশ্বের আলম গত ১০ ডিসেম্বর এককালীন অর্থ পরিশোধ করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বরের আগেই ঋণ পুনঃ তফসিল হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যোগাযোগ করতে গিয়ে দেরি করেছে। পুনঃ তফসিলের পরবর্তী সময়ে সব টাকা পেয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানিয়েছে। তাই তিনি খেলাপি নন।

নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ আছে উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, দলীয় চিঠি ছাড়া বিএনপির মনোনীত এই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। আসনটিতে বিএনপি দুজনকে মনোনীত করে। একই আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া দলীয় প্রত্যায়নপত্রসহ মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে গফুর ভূঁইয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে অন্য এক প্রার্থীর করা আপিলের কারণে তাঁর (গফুর ভূঁইয়া) মনোনয়পত্র বাতিল হয়।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ওই দিনই বিএনপি মোবাশ্বের আলমকে চূড়ান্ত করে দলীয় চিঠি তাঁর হাতে দেয়। পরে তিনি দলীয় চিঠি নিয়ে ইসিতে হাজির হন মনোনয়নপত্রের বৈধতার জন্য। তবে হাতে হাতে চিঠি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। পরে তিনি রিট করেন।