সেই জানালা দিয়ে সম্ভবত এস আলম এসে পড়বে: সংসদে জামায়াতের সাইফুল আলম
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সংশোধন করে কিছু ধারা যুক্ত করার সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর ভাষায় এই সংশোধনীর মাধ্যমে জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে। আর তিনি দেখতে পাচ্ছেন, সেই জানালা দিয়ে সম্ভবত এস আলম এসে পড়বে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন ঢাকা–১২ আসনের এ সংসদ সদস্য।
সাইফুল আলম বলেন, গণমাধ্যমে এসেছে ইসলামী ব্যাংক থেকে এক দিনে ৭০৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিন দিনের টাকা জমা ও উঠানোর যে প্রতিবেদন, তাতে এটা ‘নেগেটিভের’ দিকে যাচ্ছে। দেশের সব কটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকে লুটপাট করা হয়েছে। সেই লুটপাট করেছে এস আলম ও তার দোসররা।
সাইফুল আলম খান বলেন, ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট ২০২৬ এর মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর কথায় জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, সেই জানালা দিয়ে সম্ভবত এস আলম এসে পড়বে।’ এই সংসদ সদস্য বলেন, এই ব্যাংককে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংকের গ্রাহক ছিল ১ কোটি ২০ লাখের মতো। যদি ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়ে, তাহলে দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত আসবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না করায় উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেন বিরোধী দলের এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি আইন বাতিলের বিষয় নয়; এটি আমাদের আবার একটি পুরোনো অকার্যকর ও জবাবদিহিবিহীন কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।’
সাইফুল আলম খান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগকে আবার সেই পুরোনো দলীয় প্রভাবশালী কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, একটি শক্তিশালী স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। এ ছাড়া তিনি কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
গ্রেপ্তার শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল জামায়াত
আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘জাতি জামায়াতে ইসলামীকে এবারের নির্বাচনে আনুপাতিক ভোটের সংখ্যার দিক থেকে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে যে আমরা দেশপ্রেমিক।’
বিরোধী দলের এই সদস্য দাবি করেন, ‘জামায়াতে ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে, যেখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, সেখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করার জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তখনকার জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে তাঁর মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল। শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য সব থেকে বেশি অর্থের জোগান দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।’
শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, ‘কেবল আন্দোলন নয়, আমাদের সাবেক আমিরে জামায়াত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের জন্য ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৪৮ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল, সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আবদুস সামাদ আজাদ।’