৭৪ লাখ টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক: নীলফামারীর এসপি জাহিদুলের বহিষ্কার দাবি
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটকের ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত নাটক উল্লেখ করে এ ঘটনায় নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলামের বহিষ্কার দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ বুধবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সংঘটিত ঘটনা এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখানো হয়। এটি উপস্থাপন করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফ উদ্দিন খালেদ।
সাইফ উদ্দিন বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ঘটনায় মিডিয়া ট্রায়ালের আয়োজন করেন নীলফামারীর এসপি শেখ জাহিদুল ইসলাম। তিনি ভারতে পলাতক সাবেক ডিবিপ্রধান মনিরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী। তারেক রহমানের খালাতো ভাই বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনের জনসভায় দেখা গেছে এই এসপিকে।
সাইফ উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চার দিন আগে নীলফামারীর এসপি জাহিদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আগেই বলেছিলেন, কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের দেওয়া খাবার পুলিশ খেতে পারবে না।
বিমানবন্দরের ক্যামেরা ও স্ক্যানের ভিডিওর অ্যাকসেস কার কাছে, সেই প্রশ্ন তুলে সাইফ উদ্দিন খালেদ বলেন, কিছু গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা এই প্রতিবেদন টার্গেটেড বুস্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার ৪৫ মিনিটের মধ্যে মিডিয়া ট্রায়ালের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যে একযোগে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনাল ফুটেজ ফাঁস করা হয়েছে। সবকিছুই ছিল পরিকল্পিত।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু লোক জামায়াতকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে। এর আগে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সঙ্গে বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। এ ঘটনাগুলোর সঙ্গে গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র জড়িত।
নির্বাচনকে বানচাল করতে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে অভিযোগ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নারীরা যাতে কেন্দ্রে যেতে না পারেন, সে জন্য বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আক্রমণ, হামলা করা হচ্ছে। জামায়াত মনে করে, একটা দল ও প্রশাসনের একটি অংশ, যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে ছিল, সবাই এক হয়ে এসব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে। যারা এসব ঘটনায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।