গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ ও সরকার গঠন করা হয়। এই সংসদ সদস্য নির্বাচন করবে দেশের মালিক—যাঁর বয়স ১৮ বছর এবং ভোটার। পুলিশ, র‌্যাব অথবা সরকারি কর্মচারী, হুন্ডা-গুন্ডা—এরা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার রাখে না। অথচ এরাই দিনের ভোট রাতে করে। এই লজ্জা থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, দিনের ভোট দিনে দেব, কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে দেব—এই কথাই লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানও বলতেন জনগণই ক্ষমতার উৎস, জনগণই দেশের মালিক।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তারেক রহমান বলেননি বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়, তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চান। বিএনপি ক্ষমতায় যাবে কি যাবে না, তা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। কোন দল ক্ষমতায় যাবে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। এর আগে জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরে পেতে হবে, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে হবে। রাজপথ ছাড়া এই ফয়সালা হবে না।

বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করে গয়েশ্বর রায় বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যাবে, কবে যাবে, তা তারাই ভালো জানে। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শ্রীলঙ্কার চেয়েও খারাপ। পালাতে চাইলেই পালানো যায় না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জনগণের ভাগ্য, স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারেক রহমানের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন, খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফলতার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব। এই আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে।’

এ সময় দেশে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, যারা লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করল, ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিশ্চিত করল, তারা আজ বিদ্যুৎ না দিয়ে জনগণকে হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দল কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলার সভাপতি সোহেল রানার সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন