সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদ। আজ রোববার বিকেলে প্রয়াত এই স্পিকারের স্মরণে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয় এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দিনের আংশিক কার্যসূচি স্থগিত করা হয়।
আজ দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী শুরুতে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রশ্নোত্তরের পর একটি বিল নিয়ে স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। এরপর জমির উদ্দিন সরকারের জীবনী নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর দিনের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করা হয়।
জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণা করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন তাঁর পরম আত্মীয়। নিজের মেধা দিয়ে তিনি বড় হয়েছেন। তাঁর এলাকার মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
জমির উদ্দিন সরকারের রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জমির উদ্দিন সরকার ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি এবং তাঁর নীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রথমে জাগদল এবং তারপরে বিএনপিতে যোগ দেন। দল, রাজনীতি, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তিনি অবিচল ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাকে সব সময় একটা কথা বলতেন, ইলেকশন করবে। ইলেকশনের মধ্য দিয়ে যাবে। ইলেকশন ছাড়া কিন্তু কখনো গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।’
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘জাতি এক মহান রাজনীতিক, আইনজ্ঞ এবং একজন সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। আপনাদের বক্তব্য শুনে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জমির উদ্দিন সরকার আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল ছিলেন। ফ্যাসিবাদী আমলে তাঁরা জমির উদ্দিনের দ্বারস্থ হতেন। তিনি তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মজলুম নেতাদের পক্ষে বারবার আদালতে দাঁড়িয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এই আলোচনায় অংশ নেন।
এই আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলনে, ‘জাতি এক মহান রাজনীতিক, আইনজ্ঞ এবং একজন সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। আপনাদের বক্তব্য শুনে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনিও কয়েকটি সংসদে জমির উদ্দিন সরকারের সহকর্মী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সংসদ পরিচালনা করতেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এবং খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। জাতি এক মহান সন্তানকে হারাল।