‘ইনভেস্টর’ নেই, তাই টুকটাক প্রচার

আব্দুল কাদের জিলানী, মামুন হোসেন (ডানে)

বড় দলের প্রার্থী না হলে ভোটের প্রচারের জন্য ‘ইনভেস্টর’ পাওয়া যায় না—এ উপলব্ধি ঢাকা–১৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদের জিলানীর। তিনি ছড়ি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মনোনয়নে নির্বাচন করছেন।

ইনভেস্টর (টাকা দিয়ে সহায়তা করা) জোগাড় করতে পারায় বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ভোটের প্রচারে ‘প্রচুর খরচ’ করতে পারেন বলে জানান এই প্রার্থী। বড় দুই দলের প্রার্থীদের প্রচারের বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে আরও বলেন, ‘ওনারা তো প্রচুর খরচ করছেন। আমরা তো অত খরচ করতে পারছি না। টুকটাক প্রচারে আছি। একেবারেই যে প্রচারে নেই, এমনটা বলা যাবে না।’

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এই প্রার্থীর সঙ্গে গতকাল শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে কথা বলেছে প্রথম আলো। প্রচারে গেলে ভোটাররা কী বলছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কিছু মানুষ এখনো দ্বিধা–আতঙ্কের মধ্যে আছেন যে আদৌ নির্বাচন হবে কি না? তবে একজন প্রার্থী হিসেবে তাঁর কাছে মনে হচ্ছে যথাসময়ে নির্বাচনটা হবে।

মিরপুরের একাংশ, রূপনগর ও পল্লবী এলাকা নিয়ে ঢাকা–১৬ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৯৯ জন।

এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। ভোটের প্রচারের ক্ষেত্রে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন আমিনুল। নির্বাচনী এলাকার প্রায় সর্বত্র তাঁর ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ড রয়েছে। দৃশ্যমান প্রচারে পিছিয়ে নেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেনও।

অন্য প্রার্থীদের তেমন প্রচার–প্রচারণা নেই। প্রচারের বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে পাঁচজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের একজন ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করা গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মামুন হোসেন। তিনি বলেন, তাঁদের পেছনে কেউ বড় বিনিয়োগ করতে চায় না। তাই সেভাবে ব্যানার–ফেস্টুন ছাপাতে পারছেন না। তবে মাঠে নেমে ভোটারদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

গণঅধিকার পরিষদের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমরা তো ভাই বড় হেভিওয়েট প্রার্থী না যে ব্যানার–পোস্টার দিয়ে সয়লাব করে ফেলব। আমরা তো ছোট দলের প্রার্থী। কিন্তু জনপ্রিয়তা আমাদের ইনশা আল্লাহ ভালো আছে এবং সাড়াও পাচ্ছি। আমাদের প্রধান প্রচারটা হচ্ছে জনগণের কাছে যাওয়া। ব্যানার–পোস্টার দিয়ে প্রচার করতে পারবো না বা করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব না।’

এ আসনের আওতাধীন মিরপুরের সাগুফতা আবাসিক এলাকা, পলাশনগর ও নান্নু মার্কেট এলাকা, পল্লবী, বর্ধিত পল্লবী, নিউ পল্লবী (সেকশন-৬), মিল্ক ভিটা রোড, দুয়ারীপাড়া, সিরামিক রোড, মাটিকাটা রোডসহ কয়েকটি এলাকা গতকাল ঘুরেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। এসব এলাকা ঘুরে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার–ফেস্টুন বেশি দেখা গেছে। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কিছু ব্যানার চোখে পড়েছে।

আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেনের কয়েকটি ব্যানার দেখা গেছে মিরপুর-১২ নম্বরের সিরামিক রোড এলাকায়। মাটিকাটা রোড এলাকায় দেখা গেছে আম প্রতীকের কয়েকটি ব্যানার।

আম প্রতীকে নির্বাচন করা ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিন তিনি জনসংযোগ করছেন এবং মানুষে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। গত সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। সে সময় ৮৪৬ ভোট পেয়েছিলেন।

এই প্রার্থী বলেন, ‘যদি অন্য কেউ সংসদে যায় যাক সমস্যা নেই, তারপরে আমি এলাকার মানুষের খোঁজখবর নেব।’

এ আসনের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান (বটগাছ প্রতীক), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নাজমুল হক (গরুর গাড়ি প্রতীক), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) রাশিদুল ইসলাম (কাঁচি প্রতীক) এবং জাতীয় পার্টির সুলতান আহম্মেদ সেলিম (লাঙ্গল প্রতীক)।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামানের সঙ্গে গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। ফোন ধরেন তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি বলেন, তাঁর বাবা ফরিদপুরে একটা মাহফিলের কাজে গেছেন। ভোটের প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা ব্যানার–ফেস্টুন খুব একটা না ছাপালেও ভোটারদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছেন।