বিরোধী দলের চরিত্রহনন না করে ব্যর্থতা সামলান: সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির

ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে, ৩ নভেম্বরছবি: জামায়াতে ইসলামীর সৌজন্যে।
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

সরকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতা সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি তা করেন, যদি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে। আর যদি মনে করেন যে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি, এটি বাংলাদেশে আর হবে না।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। এক মাস কারাভোগ শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া উপলক্ষে সেখানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে জামায়াত।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরেও বলেছি, এই বসন্তের কোকিল যারা এসেছে কুহু কুহু করতে, বসন্তকাল পরে ওদের আর দেখা পাবেন না। আপনাদের যখন গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকাল আসবে তখন এদের আর খুঁজে পাবেন না। আপনাদের ফেলে রেখে ওরা পালিয়ে যাবে।’

ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, গত ১ অক্টোবর জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। লাগেজের একটি অংশ আসার পরও জমজমের পানিসহ অন্য মালামাল না পাওয়ায় আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেন।

শফিকুর রহমানের দাবি, প্রতিবাদের সময় আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তার গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়।

রিমান্ডে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। গ্রেপ্তারের বিষয়ে আপত্তি নেই উল্লেখ করে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, আমাকে রিমান্ডে নিলা কেন? রিমান্ডে নিয়ে তুমি আমার চোখ বাঁধলা কেন? আর চোখ বেঁধে তুমি আমাকে জামায়াতের সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রশ্ন কেন করলা?’

একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য জানার দায়িত্ব গোয়েন্দা পুলিশের আছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘তুমি পুলিশ হয়ে, ডিবি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার ন্যক্কারজনক সাহস কোথায় পাইলা? একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলে, কী করে না করে সেই প্রশ্ন করার অধিকার বাংলাদেশের পুলিশকে কে দিয়েছে?’

তাঁর জেলে যাওয়ার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের নগ্ন আক্রোশ, প্রতিহিংসার কথা বেরিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন আখতারুজ্জামান।

ব্রিফিংয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।