চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনে প্রচারণার মাঠে প্রার্থীরা যা বলছেন

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপনির্বাচনের আগে চলছে প্রচার–প্রচারণা
ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপনির্বাচনে এলাকাবাসীর চাওয়া-পাওয়া মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নোমান আল মাহমুদ। অপর দিকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সেহাব উদ্দিন মুহাম্মদ আবদুস সামাদ ‘ভোট ডাকাত’ ধরতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণার সময় দুই প্রার্থী এসব কথা বলেন। ২৭ এপ্রিল এ উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ আজ দুপুরে নগরের ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর এলাকায় প্রচার চালান। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না এলেও তারা মাঠে আছে অরাজকতার উদ্দেশ্যে। আমরা তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করব। চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নোমান আল মাহমুদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা কালুরঘাট সেতুর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’

নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমি কথা দিতে পারি, এলাকাবাসী যা চাইবে, তা আদায়ে আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। আমার পূর্বসূরি যাঁরা এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁদের অসমাপ্ত কাজগুলো এই স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সফর আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্পাদক আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।

পরে বিকেলে ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব সেহাব উদ্দিন মুহাম্মদ আবদুস সামাদ ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের জাঙ্গালপাড়া, হাজিপাড়া, আতুরার ডিপো, অক্সিজেন এলাকায় মোমবাতি প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগকালে পথসভায় আবদুস সামাদ বলেন, ‘এই উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে “নির্বাচন কমিশন স্বাধীন নয়, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়”—এ অভিযোগ থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই এই উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।’

নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আবদুস সামাদ বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচন সরকারের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। গোপন বুথে কোনো ভূত দেখতে চাই না। ভোট ডাকাতদের ঠেকাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র গোপন ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।’

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এম সোলায়মান ফরিদ, প্রচার সচিব আবুল হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সচিব এনামুল হক সিদ্দিকী, মহানগর উত্তর সভাপতি আবদুন নবী, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।

এদিকে ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন গতকাল রোববার বিকেলে নগরের মৌলভি পুকুর পাড় ও বিবিরহাট এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছেন।