রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন না ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র এমপি, কারণ কী

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লোগো।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন না চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।

এর কারণ হিসেবে দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এই নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। আজ বেলা দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের ২৫০ ও বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ আসনের পাশাপাশি এই নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৮ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ আলংকারিক হলেও জাতীয় সংকটসহ জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। রাষ্ট্রপতিই বাংলাদেশে সর্বজনীন ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এই নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বিবৃতিতে বলেছেন, জুলাই সনদে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০–এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয়কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এই ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮–এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোটদান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থাভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নেই। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া আর কিছু নয়।

যে নীতি ও আইনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে, সেটিকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি না বা এর কোনো প্রয়োজন আদতেই আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে ইসলামী আন্দোলন। দলটির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা নিশ্চিত হয়েই আছে। তাহলে এত সব নাটক মঞ্চস্থ করার কী অর্থ আছে? আক্ষরিক অর্থে এখানে নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের কাজ কী? এগুলো জনগণের টাকা নষ্ট ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করা ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁরা এর নিন্দা জানিয়ে রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুসারে জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে মান্য করে জুলাই সনদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুনভাবে আয়োজন করার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা।