নির্বাচনের পরিবেশ ‘সো ফার, সো গুড’: বিএনপি

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। আজ বুধবার রাতে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো

আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিবেশ ‘সো ফার সো গুড’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

আজ বুধবার রাতে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান এ কথা বলেন। এর আগে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের টাকা ও উপহারসামগ্রী বিতরণের বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নজরুল ইসলাম খান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা একটা জটিল সময়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিপক্ষ খুব দুর্বল নয়, যারা দীর্ঘদিন দেশ শাসন করেছে, তাদের প্রচুর সুবিধাভোগী আছে এখানে। তারা এই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে। আবার দেশের ভেতরেও যাদের বিজয় সম্পর্কে দুশ্চিন্তা আছে কিংবা পরাজয় সম্পর্কে যারা নিশ্চিত, তারা অনেকেই চেষ্টা করতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আবার কিছু খারাপ ব্যক্তিও তো আছে। যারা ক্ষতি করতে পারলেই খুশি হয়। তবে এই চেষ্টা থাকার পরও জনগণের আগ্রহ তার চেয়েও বেশি। জনগণ চায় নির্বাচনটা হোক এবং সুষ্ঠুভাবে হোক। আমরাও বিশ্বাস করি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের জামায়াতে ইসলামীর নেতা টাকাসহ আটক হওয়া প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সৈয়দপুরের ঘটনার রেফারেন্সে একটা বিশেষ বাহিনীর বড় কর্মকর্তা বলেছেন, কাস্টমসের অনাপত্তিতেই ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়েতের আমিরকে টাকা বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। আভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যদি কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকে, তাহলে অনুমতির দরকার হয় কেন? তাহলে ওনার প্রথম কথার সঙ্গে দ্বিতীয় কথা তো মিলল না। আর এই কথা তো ওনার কাছে কেউ জানতে চাই নাই। তাহলে তাঁর অতি উৎসাহ নিয়ে এই কথাটা বলার দরকার হলো কেন?’

জামায়াতের জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে বিএনপি এই নাটক সাজিয়েছে—জামায়াতের এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘টাকাসহ জামায়াত নেতাকে আটক তো পুলিশ করেছে। বিএনপি তো ধরে নাই। নাটক হলে এই নাটকের অভিনেতা তো তারাই।’

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের ১২টি নির্বাচনী ক্যাম্প পোড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যদি কেউ এটা করে থাকে, এটা খুব অন্যায় হয়েছে। এটার উপযুক্ত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আমরা এটা করিনি। অন্য কেউ ষড়যন্ত্র করছে।’

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে জামায়াত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে—দলটির এ বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যে-ই নির্বাচনকে প্রতিরোধের চেষ্টা করবে, বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবে, জনগণই তাদের প্রতিহত করবে। সেটা যদি আমরাও করি, আমাদেরও জনগণ প্রতিহত করবে।’

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি কতটা সন্তুষ্ট—এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, নির্বাচন কমিশন আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারত।’