জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে দুটি প্যানেল আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। এরপরও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর সমর্থিত প্যানেল ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্যানেলটি থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ইভান তাহসীব। পাশে ছিলেন সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী গৌরব ভৌমিক।
জিএস পদপ্রার্থী ইভান তাহসীব বলেন, ‘ভোট গ্রহণ চলার সময়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের লোকজন ক্যাম্পাসের বাইরে মারামারিতে লিপ্ত হন। এর মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। যাঁরা বাইরে থেকে দেখছিলেন কিংবা ভোট দেওয়ার কথা ভেবেছেন, তাঁদের মধ্যে বিরূপ বা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
ভাসানী ব্রিগেডের জিএস প্রার্থী আরও বলেন, এই প্যানেলগুলোর সমর্থক বা পোলিং এজেন্ট যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরেই নানা ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রের ভেতরেই নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিযোগ এসেছে। এর মাধ্যমে ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে, যেটা স্পষ্টতই আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইভান তাহসীব বলেন, এখানে প্রতিনিয়ত একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বড় বড় প্যানেলে প্রার্থীরা প্রচার চালিয়েছেন। জেলা প্রতিনিধি সমাবেশের নামে দুই প্যানেলের প্রার্থীরা বারবিকিউ পার্টি করেছেন। বিভিন্ন প্যানেল থেকে বাসে করে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ইভান তাহসীব আরও বলেন, ‘প্রকাশ্য এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রমাণ থাকার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখিনি। সর্বোচ্চ যেটা হয়েছে, শোকজের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেগুলোর ফিডব্যাক বা ফলোআপ আমাদের কাছে আসেনি। আজও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিরা অনেক আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরও নির্বাচন কমিশন বিশেষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমানের ফোনে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হয়। তবে তিনি সাড়া দেননি।