শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাসহ সব সহিংসতার বিচার চায় এনপিএ
শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে স্থানীয় জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মনে করে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)।
রেজাউল হত্যাকাণ্ডসহ নির্বাচন ঘিরে সংঘটিত সব সহিংস ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। একই সঙ্গে তারা এসব ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সুস্পষ্ট জবাবদিহি দাবি করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে এনপিএ। প্ল্যাটফর্মটির মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান ও ফেরদৌস আরা রুমী এ বিবৃতি পাঠিয়েছেন। ১৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আত্মপ্রকাশের পর এটিই এনপিএর প্রথম বিবৃতি।
গতকাল বুধবার বিকেলে শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের উদ্যোগে গঠিত প্ল্যাটফর্ম এনপিএর বিবৃতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমাগত সহিংসতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনিক ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে চলমান ব্যাপক সহিংসতায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। আসন ভাগাভাগি, প্রতীক বণ্টন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মান ভাঙানো কিংবা দল থেকে বহিষ্কারের মতো ঘটনাপ্রবাহকে ছাপিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার খবরই বেশি আলোচিত হচ্ছে।
রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপির সন্ত্রাসীসহ শেরপুরে সহিংসতা সৃষ্টিকারী জামায়াত ও বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে এনপিএ। তারা বলেছে, ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়া শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং ওই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংস হত্যার ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে অবস্থানকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ গতকাল শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে সংঘটিত বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বিএনপি সন্ত্রাসীদের দ্বারা জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে।
এনপিএ বলেছে, শেরপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংসতার বিবরণে দেখা যায়, প্রশাসনিক উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে এবং পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এই হত্যাকাণ্ড ও সার্বিক ঘটনার দায় কোনোভাবেই প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারে না।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মব সহিংসতা ও বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে, বর্তমান বেহাল জননিরাপত্তা তারই সরাসরি প্রতিফলন বলে মনে করে এনপিএ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে অভ্যুত্থানকালে লুট হওয়া ১ হাজার ৩০০টির বেশি অস্ত্র উদ্ধার, মব সহিংসতাসহ সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলকে সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে এনপিএ বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণের জন্য ভয়মুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় ও প্রতিরোধী ভূমিকা নিতে হবে।