সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী
জাতীয় সংসদে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন–সংক্রান্ত প্রশ্নে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের সময় (মন্ত্রীরা) যে উত্তর দিতেন, মন্ত্রীসাব সেই উত্তর দিয়েছেন।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা–নোয়াখালী সংযোগস্থলের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেখানে অবৈধভাবে দানবীয় ব্যারিকেড স্থাপন, কুমিল্লার প্রবেশপথে টমছম ব্রিজসহ সাতটি স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মিত না হওয়ায় এই স্থানটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তিনি এর প্রতিকার চেয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে নোটিশের ওপর মন্ত্রীকে বিবৃতি দিতে বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এলাকায় ইউলুপ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, প্রকল্পের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। এ সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো সুযোগ নেই। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলমান রয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে পদুয়ার বাজারসহ মহাসড়কে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান।
সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগে মনিরুল হক চৌধুরী মন্ত্রীর বিবৃতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করেছি সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেখানে আন্ডারপাস কোথায় গেল? ওভারপাসটি কেন হলো না? ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়। এরপর এত লোক মারা গেল, কিন্তু একজনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পটি আগে থেকে চলমান আছে। আমরা শুধু নকশা পরিবর্তন করে, বাজেট সমন্বয় করে কাজ করছি। এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেন প্রকল্পের ওই অঞ্চলে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, মোড়গুলোতে প্রচুর যানবাহনকে ম্যানেজ করতে হয়। পূর্ববর্তী সময়ের প্রকল্পে যতটুকু সংশোধন করা দরকার, ততটুকু করতে পারছি, এর বেশি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার নতুন এসেছে। সংসদ সদস্য আমাকে জ্ঞাত করেছেন। সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি। সেখানে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাব।
পরে স্পিকার মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এসব পদক্ষেপে কি মনিরুল হক চৌধুরীর সমস্যা সমাধান হবে? আপনি হ্যাঁ, অথবা না বলুন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক হবে।