হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামছবি: নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পেজ থেকে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান না করে ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলা ও ইংরেজিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন
নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্ট
ছবি: নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পেজ

নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে বলেন, বিগত দুই বছর ধরে ভারত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে দণ্ডিত খুনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা ও জনগণের গণতান্ত্রিক রায়ের প্রতি সরাসরি অবমাননা। সবশেষ বাংলাদেশের আপত্তি উপেক্ষা করে দিল্লিতে হাসিনার কথিত সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এটাও স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এ ঘটনায় নয়াদিল্লির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর জবাবদিহি বাংলাদেশ সরকার আদায় করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েই তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন গুরুতর আঘাতের পরও ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত কার্যকর জবাবদিহিতা আদায় করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন

গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আরও উদ্বেগজনক হলো, গতকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ৫ আগস্টের এ ঘটনার (সংবাদ সম্মেলন) বিষয়ে কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। বাংলাদেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্ন এমন একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়া গভীরভাবে হতাশাজনক।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের ‘শেয়ার্ড ড্রিম’-এর কথা বলেছেন। বাংলাদেশের জনগণ কোনো কথিত সম্প্রসারণবাদী ‘শেয়ার্ড ড্রিম’–এর অংশীদার নয়। বাংলাদেশের জনগণ এমন কোনো সম্পর্ক মেনে নেবে না, যেখানে দিল্লি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা প্রভাব বিস্তারের অধিকার দাবি করে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদকে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপ দেওয়া এখন জরুরি বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের নিশ্চয়তা—এসব প্রশ্নে সরকারের দৃঢ় ও দৃশ্যমান অবস্থান প্রয়োজন।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালানোর সুযোগ পায়, তাহলে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ভারত সফর করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ অর্থহীন।

বন্ধুত্বের অজুহাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার অবসান, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের আশ্রয় ও কার্যক্রমের বিষয়ে ভারতের সুস্পষ্ট অবস্থানসহ সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।