সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গণভোটের রায়কে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে: পরওয়ার
সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গণভোটের গণরায়কে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ মানুষের পক্ষে সংসদ ও রাজপথে সক্রিয় থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে এটিকে সংবিধানবিরোধী বলছে। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশকে তারা চ্যালেঞ্জ করে বলছে, এ আদেশ রাষ্ট্রপতি দিতে পারেন না। তারা বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার বিধান সংবিধানে নেই। এসব সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, একটা বিভ্রান্তি তৈরি করে গণরায়কে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত লংমার্চের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ কথা বলেন। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এ সময় গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি হলেও দল হিসেবে জামায়াতের প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার জানান, লংমার্চে ছয়টি প্রধান দাবি তুলে ধরা হবে। দাবিগুলো হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি রোধ; অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমবেত হয়ে সেখান থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হবে বলে জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন মানুষের গণ-আকাঙ্ক্ষা। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের দাবিতে ১১ দলের বাইরে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। লংমার্চে প্রশাসন, সরকারি দল সবার সাহায্য পরমতসহিষ্ণুতার নজির স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লংমার্চকে কেন্দ্র করে মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে উল্লেখ করে আগাম ক্ষমাও প্রার্থনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজনৈতিক, সাংবিধানিক সব বিতর্কের জায়গা পার্লামেন্ট, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এখনো চাই যে পার্লামেন্টে এটা নিষ্পত্তি হোক। যতক্ষণ তা হচ্ছে না, ততক্ষণ নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক কর্মসূচি দিয়ে যে ৭০ ভাগ জনগণ “হ্যাঁ” বলেছে, আমরা সে জনগণের সঙ্গে রাজপথে আমরা থাকতে চাই।’
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে খেলাফত আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস আসবে কি না, তা জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘খেলাফত আন্দোলন আছে। খেলাফত মজলিস জোটে নাই তা বলেনি। ওনাদের দলীয় কিছু কার্যক্রমের কারণে আপাতত আমাদের কয়েকটা বৈঠকে আসেনি। দেশের প্রয়োজনে জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওনারা আমাদের সাথে থাকবেন আশা করি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।