বাসসের এমডিকে ‘মব’ ও এখন টিভির ৪ সাংবাদিককে শোকজের ঘটনায় এনসিপির প্রতিবাদ
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে সরাতে ‘মব’ সৃষ্টি এবং বেসরকারি চ্যানেল এখন টেলিভিশনের চার সাংবাদিককে শোকজ করার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, বিএনপি সরকারের আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চিত্র কেমন হবে, এই দুটি ঘটনা তার ইঙ্গিত বহন করে।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে এনসিপি। যে দুটি ঘটনার প্রতিবাদে এই বিবৃতি, দুটোই ঘটেছে গতকাল বুধবার।
এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে ফেসবুকে মতপ্রকাশ করায় গতকাল এখন টিভির চার সাংবাদিককে শোকজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাসসের প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে পদ থেকে সরানোর জন্য ‘কতিপয় বিএনপিপন্থী উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মব সৃষ্টি করেছেন’ বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এনসিপি মনে করে, নতুন সরকার গঠনের এক দিনের মাথায় ঘটা এই ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার করুণ চিত্রের ইঙ্গিত দেয়।
এনসিপি বলেছে, বাসসের প্রধান সম্পাদককে অপসারণ করার জন্য মব সৃষ্টি প্রমাণ করে ফ্যাসিবাদী আমলে সংস্থাটি যেভাবে সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের মতো ভূমিকা পালন করেছে, বর্তমান সরকারের আমলেও সেটি অব্যাহত থাকবে। বিএনপি সরকার গঠনের পরদিনই সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার প্রয়াস থেকে বুঝতে পারা যায়, সামনের দিনে সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কীভাবে খড়্গহস্ত হবে। তবে এনসিপি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে রক্তের মাধ্যমে অর্জিত মতপ্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার ‘আমরা হারিয়ে যেতে দেব না’।
স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং বাসসের সম্পাদককে স্বপদে বহাল রেখে মতপ্রকাশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। দলটি আরও বলেছে, ‘ফ্যাসিবাদী যেকোনো তৎপরতা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা পুনরায় রুখে দেব। পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।’
বিএইচআরএফের উদ্বেগ
এদিকে আজ গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক এক বিবৃতিতে এখন টেলিভিশনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)। তারা বলেছে, এখন টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ প্রতিবেদক ও বিএইচআরএফের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভসহ চারজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করে তাঁদের সাময়িকভাবে বার্তাকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করার ঘটনাটি পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
বিএইচআরএফ বলেছে, যেকোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা স্বচ্ছ নীতিমালা, লিখিত অভিযোগ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্তপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের দবি জানিয়েছে বিএইচআরএফ। বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে ভীতির পরিবেশ নয়, স্বাধীন ও পেশাদার কর্মপরিবেশই কাম্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে এটাই প্রত্যাশা।