রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দিল সরকারি দল, ‘কেন ধন্যবাদ’ প্রশ্ন বিরোধী দলের

ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা বলেছেন, যে রাষ্ট্রপতি সব অন্যায়ের প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন, তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের ১৬ জন সদস্য অংশ নেন। এ আলোচনা পর্বটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের এনসিপির সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ব। কিন্তু আশঙ্কার সঙ্গে দেখছি, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে, যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছিলাম, সে বিষয়গুলোতে সরকারি দলের একধরনের অনীহা দেখা যাচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিসিবিকে (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) শুধু দলীয়করণ নয়, পরিবারকরণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকে দলীয় ব্যক্তি-ব্যবসায়ীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-১৮ আসনের সরকারদলীয় সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘২০১০ সালে খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর থেকে বাংলাদেশের মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়। সে জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের নেতাকে (তারেক রহমান) লন্ডনে যেতে হয়েছিল বা লন্ডনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই নেতা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর তিনি যখন ফিরে আসেন, তখনই বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছিল, বাংলাদেশে নতুন কিছু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ এর বাস্তবতা আমরা দেখতে পাচ্ছি, এখন তিনি কাজ শুরু করেছেন।’

এস এম জাহাঙ্গীর তাঁর নির্বাচনী আসনের নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১২টি ওয়ার্ডে (২০১৭ সালে সিটি করপোরেশনে যুক্ত) কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার শুধু বাহবা পাওয়ার জন্য ওয়ার্ডগুলো সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি আবদুল্লাহপুর বেড়িবাঁধকে ৩০০ ফিট রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করেন। এতে এলাকার যানজট অনেক কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নেত্রকোনা-২ আসনের সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, সংসদে (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে) জাতীয় সংগীতের প্রতি বিরোধী দলের অবহেলা কষ্ট দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে ভাষণের সময় ওয়াকআউট করা তাদের দ্বিচারিতা।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের সম্মানিত রাষ্ট্রপতিকে দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হতে হয় এবং সত্যিকারের একটি নীতির অনুসারী হতে হয়। ওনার রাজনৈতিক জীবনে আমি সেটি দেখতে পাইনি। তিনি কিছুদিন ফ্যাসিস্টের পক্ষে নেতৃত্ব দেন, কিছুদিন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সহাবস্থানে। বিভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ায় ওনাকে ধন্যবাদ দিতে না পারায় আমি দুঃখিত।’

নীলফামারী-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আল ফারুক আবদুল লতিফ বলেন, যে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী শাসনের যাবতীয় অন্যায়, গুম-খুনকে মেনে নিয়ে, রাষ্ট্রের প্রধান হয়েও সব অন্যায়ের প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন, সেই রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সদস্যরা এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ দুর্ভোগের বিষয়ে স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আইনুল হক, হবিগঞ্জ-২ আসনের আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন, শরীয়তপুর-২ আসনের শফিকুর রহমান (কিরণ), কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মাজহারুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আসনের মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেস আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের খালেদ হোসেন, গাজীপুর-১ আসনের মুজিবুর রহমান, শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।