শিবিরের সাবেক ১৮ জন শীর্ষ নেতা এবার প্রার্থী
ছাত্রশিবিরের সভাপতি কিংবা সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন—এমন ১৬ জন নেতাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী। এর বাইরে শিবিরের সাবেক দুজন সভাপতিও এবার অন্য দুটি দলের হয়ে নির্বাচন করছেন। অবশ্য তাঁরা জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে শিবিরের সাবেক ১৮ জন শীর্ষ নেতা এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর এবারের প্রার্থী তালিকার প্রায় ৮০ শতাংশ নতুন, যাঁরা এর আগে কখনো নির্বাচন করেননি। অতীতে জামায়াতে প্রবীণ নেতৃত্বের আধিপত্য ছিল, কিন্তু এবার অনেকটাই ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সাবেক শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশকে এবার মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত। যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আগেও নির্বাচন করেছেন।
১৯৮৬ ও ১৯৮৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এর আগে ১৯৮৫ সালে তিনি সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। এবারের নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ আসনে (চৌদ্দগ্রাম) দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি।
অবশ্য তাঁরা জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে শিবিরের সাবেক ১৮ জন শীর্ষ নেতা এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান এখন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। রফিকুল ইসলাম খান এবার সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা-১২ সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. সাইফুল আলম। তিনি ১৯৮৩ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
ময়মনসিংহ-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মো. মতিউর রহমান আকন্দকে। তিনি ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি ২০০১ ও ২০০২ সালে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। নূরুল ইসলাম বুলবুল এখন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী করেছে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসেনকে। তিনি ২০১২ ও ২০১৩ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি ২০০৯ সালে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ২০০৪ ও ২০০৫ সালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। সেলিম উদ্দিন এখন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির।
২০০৬ ও ২০০৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁকে পটুয়াখালী-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সাবেক সভাপতি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী করেছে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসেনকে। তিনি ২০১২ ও ২০১৩ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিপরীতেও জামায়াত প্রার্থী করেছে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনকে। তিনি ২০১১ সালে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
১৯৮২ সালের মার্চে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হন আহমদ আবদুল কাদের। জামায়াতের সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে ওই বছরের আগস্টে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি খেলাফত মজলিসের মহাসচিব।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিপরীতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম। ২০০৯ ও ২০১০ সালে তিনি শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
ঢাকা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মাদ নজরুল ইসলামও ২০০১ সালে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
তাঁরাও প্রার্থী, তবে ভিন্ন দল থেকে
১৯৮২ সালের মার্চে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হন আহমদ আবদুল কাদের। জামায়াতের সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে ওই বছরের আগস্টে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি খেলাফত মজলিসের মহাসচিব।
আহমদ আবদুল কাদের এবার হবিগঞ্জ–৪ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে লড়ছেন।
অন্যদিকে ২০০৩ সালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ২০০২ সালে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মজিবুর রহমান (মঞ্জু)। ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। দলের ঢাকা মহানগর মজলিশে শুরার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালের মে মাসে মঞ্জুসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে এবি পার্টি। বর্তমানে তিনি দলটির চেয়ারম্যান। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে শরিক হয়েছে এবি পার্টি। ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ফেনী-২ আসনে ‘ঈগল’ প্রতীকে লড়ছেন মঞ্জু।
তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়
ছাত্রশিবিরের সাবেক যেসব শীর্ষ নেতাকে জামায়াত এবার মনোনয়ন দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী তিনজন হলেন মো. রাশেদুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আইউবী ও মোবারক হোসাইন।
রাশেদুল ইসলামকে শেরপুর–১ আসনে প্রার্থী করেছে জামায়াত। তিনি ২০২২ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগের বছর তিনি সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আইউবী গাজীপুর-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। তিনি ২০২১ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন। ২০২০ সালে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল।
কুমিল্লা–৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোবারক হোসাইন ২০১৯ সালে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তার আগে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তিনি সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
আর কুমিল্লা–১০ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত ২০১৭ ও ২০১৮ সালে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া ২০১৬ সালে তিনি সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
শিবিরের সাবেক শীর্ষ নেতা ও তরুণদের প্রার্থী করার বিষয়ে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ-যুবকদের ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রার্থী তালিকায় তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।